“বহুতল নির্মাণে নতুন কড়াকড়ি”-পুরসভার ফর্ম ফিলাপ না করলে বন্ধ কাজ! জেনে নিন আপডেট

তারাতলা সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক নির্মাণ বিপর্যয়ের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ রুখতে এবার কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা পুরসভা। সোমবার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে নতুন নির্দেশিকা ও একটি নির্দিষ্ট ফর্ম প্রকাশ করেছেন। শহরের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বরো অফিসে অথবা পুরসভার সরকারি ওয়েবসাইটে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬টি বরোয় ১৬টি অডিট টিম শহরের বহুতলগুলোর নিরাপত্তা ও কাঠামোগত স্থিতিশীলতা যাচাই করতে ১৬টি বরো এলাকার জন্য ১৬টি পৃথক বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হয়েছে। এই অডিট টিমে শুধুমাত্র পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররাই নন, থাকছে পিডব্লিউডি (PWD), কেএমডিএ (KMDA) এবং রাজ্য শ্রম দপ্তরের বিশেষজ্ঞরাও। নিরাপত্তার স্বার্থে এই কমিটিতে কলকাতা পুলিশের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অডিট টিমগুলি ইতিমধ্যে অনুমোদিত প্রকল্পের তালিকা হাতে নিয়ে সরাসরি নির্মাণস্থল বা ‘ফিল্ড ভিজিটে’ নামছে।

অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পুরসভা সূত্রে খবর, প্রতিটি নির্মাণস্থল খতিয়ে দেখে অডিট টিম একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে নবান্ন ও পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকদের গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টেকনিক্যাল কমিটির কাছে। ওই কমিটি কারিগরি দিকগুলো খতিয়ে দেখার পরই কাজের ছাড়পত্র দেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুযায়ী, অডিটের ভিত্তিতে তিন ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে:

  • আবেদন বাতিল: গুরুতর বিধিভঙ্গ বা গাফিলতি থাকলে প্রকল্পের অনুমোদন সরাসরি বাতিল।

  • সংশোধনের নির্দেশ: ত্রুটি সামান্য হলে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ।

  • ছাড়পত্র: সমস্ত নিয়ম যথাযথ থাকলে পুনরায় কাজ শুরুর অনুমতি।

পরিধি বাড়ল নজরদারির প্রাথমিকভাবে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নির্দিষ্ট কিছু পুরসভাকে এই নজরদারির আওতায় আনা হলেও, বর্তমানে এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর ও হাওড়ার গঙ্গার তীরবর্তী সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পকেও এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। তবে রেল, মেট্রো, সরকারি প্রকল্প এবং নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি কাজকে এই নির্দেশিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

৯ জুলাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ঢালাওভাবে সব কাজ বন্ধ রাখা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। যে প্রকল্পগুলোর অডিট দ্রুত শেষ হবে এবং ‘গ্রিন সিগন্যাল’ মিলবে, তারা অবিলম্বে কাজ শুরু করতে পারবে। তবে ৩১ জুলাইয়ের পর আগামী ৯০ দিনের জন্য হাইরাইজ ও বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও লাইটনিং অ্যারেস্টার-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের বিশেষ অডিট চালানো হবে। নবান্নের স্পষ্ট বার্তা, নগরায়ণ থমকে দেওয়া লক্ষ্য নয়, বরং মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *