১ জুলাই থেকে বাংলায় নতুন যুগের সূচনা! শুরু হচ্ছে ১২৫ দিনের ‘ভিবি জি রামজি’ প্রকল্প

পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে কেন্দ্রের নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প— ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’, যা সংক্ষেপে ‘ভিবি জি রামজি’ (VB-G RAM G) নামে পরিচিত। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

কী এই প্রকল্প? মনরেগা (MGNREGA) প্রকল্পের বদলেই কেন্দ্র এই নতুন ‘ভিবি জি রামজি’ প্রকল্প নিয়ে এসেছে। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মনরেগার বকেয়া মেটানো নিয়ে বড় আশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মনরেগার বকেয়া পাওনা নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। বকেয়া টাকা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিল ও ভাউচার জমা দিলেই কেন্দ্র তা মিটিয়ে দেবে বলে আশ্বাস মিলেছে। তবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অতীতের দুর্নীতি এড়াতে সমস্ত কাজের অডিট করা হবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই করেই টাকা বরাদ্দ করা হবে।

দুর্নীতি রুখতে কড়া নজরদারি পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগে যে সমস্ত কাজ হয়েছে কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার মেলেনি, সেসব ক্ষেত্রে কঠোর অনুসন্ধান চালানো হবে। সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনো দুর্নীতির দায় বর্তমান সরকার নেবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজ্যে ২০০০ পঞ্চায়েত প্রধান কাজে যোগ না দেওয়া বা পদত্যাগ করার ফলে কিছু এলাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

খরচের কাঠামো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০ শতাংশ খরচ রাজ্য বহন করবে। মন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, রাজ্যের বাজেটে এর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে, তাই আর্থিক কোনো সমস্যা হবে না। তবে দক্ষ কর্মীর অভাব একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে, যা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ উদ্যোগ আগামী দিনে বাংলার অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে প্রশাসনিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *