‘রাজার ছেলে আর রাজা হবে না, যোগ্যরাই সিংহাসন পাবে’! ছাত্রদের কড়া বার্তা সুপার ৩০-এর প্রাণপুরুষ আনন্দ কুমারের!

রুনটা ইউনিভার্সিটি আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘টেক ফেস্ট ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে এক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ এবং ‘সুপার ৩০’-এর প্রতিষ্ঠাতা আনন্দ কুমার। তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার পড়ুয়ার মধ্যে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা
শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনন্দ কুমার সাফল্যের সংজ্ঞা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বর্তমানে সাফল্যের সংজ্ঞা বদলেছে। এখন রাজার ছেলে রাজা হবে না, বরং সেই সিংহাসনে বসবে যে সত্যিকারের যোগ্য।” তাঁর মতে, মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিরন্তর নিজেকে উন্নত করার ইচ্ছাশক্তিই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

ব্যর্থতাকে ভয় নয়, সাফল্যের পথে এগিয়ে চলো
নিজের জীবনসংগ্রাম এবং ‘সুপার ৩০’-এর নেপথ্যের কাহিনী তুলে ধরে আনন্দ কুমার শিক্ষার্থীদের বলেন, কঠিন সময়কে বাধা হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে শৃঙ্খলা, নিয়মিত অভ্যাস এবং লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকার পরামর্শ দেন।

পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন
এই টেক ফেস্ট ২০২৬-এ প্রায় ৩,০০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রযুক্তিগত, সাংস্কৃতিক এবং সৃজনশীল নানা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পড়ুয়ারা তাদের প্রতিভা তুলে ধরে। প্রতিযোগিতায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ১৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ অ্যাওয়ার্ড। পড়াশোনা, উদ্ভাবন এবং পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে অসামান্য অবদানের জন্য ছয়জন শিক্ষার্থীকে এই সম্মান প্রদান করা হয়। পুরস্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন আশিস কুমার, সওয়ান কর্মকার, ভিকি কুমার, কীর্তি প্রিয়া, সুপ্রিয়া দেবাঙ্গন এবং শিবাংশী শর্মা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রুনটা ইউনিভার্সিটির আচার্য সন্তোষ রুনটা বলেন, “টেক ফেস্ট এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্ষমতা আবিষ্কার করে এবং বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। যারা ভিন্নভাবে চিন্তা করে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেয়, সাফল্য তাদেরই কাছে আসে।”

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং ডিজে পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে। আনন্দ কুমারের উপস্থিতি এবং তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মনে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছে, যা টেক ফেস্ট ২০২৬-কে এক স্মরণীয় সংস্করণে পরিণত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *