পাকিস্তানে বড় পদক্ষেপ! ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ জিও নিউজ

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ এবং জনপ্রিয় উর্দু সংবাদ চ্যানেল ‘জিও নিউজ’-এর সম্প্রচার ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘পেমরা’ (PEMRA)। গত ২৭শে জুন জারি করা এক নির্দেশে পেমরা জানিয়েছে, চ্যানেলটির একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বিষয়বস্তু জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারত এবং তা আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণ হতে পারত।
বিতর্কের সূত্রপাত ‘সফর-এ-ইশক’ অনুষ্ঠান নিয়ে
পবিত্র মহররম মাস উপলক্ষে জিও নিউজ তাদের ‘সফর-এ-ইশক’ নামক অনুষ্ঠানে কিছু দৃশ্য প্রদর্শন করেছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই দৃশ্যগুলো ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। এই প্রেক্ষিতেই পেমরা সব স্যাটেলাইট, কেবল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চ্যানেলটির সম্প্রচার অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেয়। সকল পরিবেশক সংস্থাকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
চ্যানেলের অবস্থান ও ক্ষমা প্রার্থনা
বিতর্ক দানা বাঁধার পরই জিও নিউজ কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে। চ্যানেলটি জানায়, এটি ছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ‘সম্পাদকীয় ভুল’। তাদের দাবি, প্রদর্শিত দৃশ্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের ধর্মীয় রীতিনীতির অংশ ছিল, কিন্তু চ্যানেলটি কোনো বিশেষ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করেনি। ভিডিওটি তাদের নিজস্ব তৈরি নয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে এটি সম্প্রচারিত হয়েছিল বলে জিও নিউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভুল ধরা পড়ার সাথে সাথেই তা সরিয়ে ফেলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
পেমরা-র ‘কাউন্সিল অফ কমপ্লেন্টস’ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। চ্যানেলটি কীভাবে এই ভুল করল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তারা কী ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে জিও নিউজকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে জিও নিউজ পাকিস্তানের রাজনীতি, নির্বাচন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সংবাদ পরিবেশনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে পাকিস্তানে ধর্মীয় বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরাবরই এ ধরনের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে।