তৃণমূল থেকে ‘ঋতব্রত-শিবির’ হয়ে এবার শ্রীঘরে! ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার শামস ইকবাল

রাজ্য রাজনীতিতে ফের তোলপাড়। গার্ডেনরিচের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবালকে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করল পুলিশ। কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলরের গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। মহম্মদ শাদাব নামে এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

অভিযোগের নেপথ্যে:
অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শামস ইকবাল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা ওই ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। ব্যবসায়ীর বক্তব্য, এলাকায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে—এমনটাই নির্দেশ ছিল কাউন্সিলরের। টাকা না দিলে পরিবারসহ তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

কে এই শামস ইকবাল?
শামস ইকবাল কেবল একজন কাউন্সিলর নন, গার্ডেনরিচ ও মেটিয়াবুরুজ এলাকায় তিনি একাধিপত্য বিস্তার করে রয়েছেন বলে অভিযোগ। মুন্না ইকবালের পুত্র শামসের উত্থান অত্যন্ত দ্রুত। ২০২১ সালের পুরভোটে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন প্রায়শই শিরোনামে উঠে এসেছে। একাধিক বিদেশ ভ্রমণ, বলিউড তারকাদের সঙ্গে ছবি, এবং কোটি টাকা মূল্যের ফেরারি গাড়ি ব্যবহারের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিতর্ক:
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফিরহাদ হাকিম-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শামস ইকবাল নিজেকে ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরের দিকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত এই কাউন্সিলরকে সম্প্রতি যোগ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেও দেখা গিয়েছিল।

তবে বিতর্কের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে বারবার। গত ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার সময়ও তাঁর ওয়ার্ডের বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। সেই সময় প্রভাবশালী মহলের মদতে তিনি পার পেয়ে গেলেও, এবার তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশের জালে আটকে গেলেন এই দাপুটে নেতা।

কী বলছেন সমালোচকরা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শামস ইকবালের এই গ্রেফতারি রাজ্যের শাসকদল এবং বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক সময়ের ‘অস্পৃশ্য’ এই কাউন্সিলর কীভাবে এখন আইনি বেড়াজালে জড়ালেন এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *