বিমান ভাড়া কি এবার আকাশছোঁয়া? লোকসানের পাহাড় ডিঙাতে হিমশিম এয়ারলাইন্সগুলো!

ভারতের বিমান চলাচল খাতের জন্য অত্যন্ত দুঃসংবাদ। রেটিং সংস্থা আইসিআরএ (ICRA)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে (FY27) দেশের বিমান সংস্থাগুলোর মোট ক্ষতির পরিমাণ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বাড়তে পারে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ ৩৬,০০০ থেকে ৩৮,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

কেন বাড়ছে লোকসান? আইসিআরএ জানিয়েছে, বেশ কিছু প্রতিকূল পরিস্থিতি একত্রে বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে:

  • মুদ্রার অবমূল্যায়ন: ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দুর্বলতা লিজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আকাশচুম্বী করেছে।

  • জ্বালানি সংকট: এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ-এর মূল্য গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৬.৯% বেশি, যা পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে যাত্রী চাহিদার ওপর।

পূর্বাভাস সংশোধন পূর্বে আইসিআরএ অনুমান করেছিল যে ২০২৭ অর্থবর্ষে লোকসান হবে ১১,০০০-১২,০০০ কোটি টাকার মধ্যে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে সেই অনুমান সংশোধন করে ৩৬,০০০-৩৮,০০০ কোটিতে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে, ২০২৬ অর্থবর্ষের লোকসানের পূর্বাভাসও ১৭-১৮ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২-৩৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

যাত্রী চাহিদাতেও ভাটা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, যাত্রী চলাচলের পূর্বাভাসও ছেঁটেছে আইসিআরএ। অভ্যন্তরীণ যাত্রী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬-৮% থেকে কমিয়ে ৩-৬% করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা আন্তর্জাতিক রুটে, যেখানে ৮-১০% প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে এখন মাত্র ০-৩% প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি ২০২৬ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলে রেকর্ড ৩৯% হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

যাত্রীদের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান সংস্থাগুলো ক্রমবর্ধমান খরচের পুরোটা যাত্রীদের ওপর চাপাতে পারবে না ঠিকই, তবে লোকসান কমাতে টিকিটের দাম বাড়ানোর পথেই হাঁটতে হতে পারে তাদের। যদিও যাত্রী লোড ফ্যাক্টর ৮৮.৮% নিয়ে সংস্থাগুলো টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে, তবুও নতুন বিমানের ক্রমবর্ধমান লিজ খরচ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য আগামী দিনগুলোতে বিমান ভ্রমণকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *