শুধু লালবাগচা রাজা নয়! ভারতে কোথায় কোথায় উদযাপিত হয় সবচেয়ে রাজকীয় গণেশ চতুর্থী?

বর্ষা বিদায়ের আমেজে সেজে উঠেছে পুরো দেশ। গণেশ চতুর্থী মানেই ভারতের উৎসবের মরসুমের এক বর্ণাঢ্য সূচনা। রাজপথ থেকে গলির মোড়—সবকিছুই আলো ঝলমলে রঙিন প্যান্ডেল, ঢাকের আওয়াজ এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত। যদিও গণেশ উৎসবের কথা বললেই প্রথম নাম আসে মহারাষ্ট্রের, তবে ভারতের বেশ কিছু বিশেষ স্থান রয়েছে যেখানে গণেশ চতুর্থীর আড়ম্বর ও ধর্মীয় আবেগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত।
আপনিও যদি এই উৎসবের বিশেষ রূপ উপলব্ধি করতে চান, তবে জেনে নিন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ৫টি গণেশ উৎসবের ঠিকানা:
এক নজরে বিখ্যাত গণেশ উৎসব স্থান:
মুম্বাই: লালবাগচা রাজা ও শ্রী সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির।
পুনে: শ্রীমন্ত দাগডুশেঠ হালওয়াই গণপতি।
হায়দরাবাদ: খাইরাতাবাদের বিশাল আকৃতির পঞ্চমুখী মহাগণপতি।
অন্ধ্রপ্রদেশ: কানি পাকমের স্বয়ম্ভূ বরসিদ্ধি বিনায়ক।
গোয়া: পারিবারিক মিলন ও বিশেষ ‘মাটোলি’ প্রথা।
১. মুম্বাইয়ের ‘লালবাগচা রাজা’ ও সিদ্ধিবিনায়ক
মুম্বাইয়ে এসে লালবাগচা রাজার দর্শন না করলে গণেশ উৎসবের সফর অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘লালবাগচা রাজা’ এখন মুম্বাইয়ের গণেশ উৎসবের প্রধান প্রতীক। কোটি কোটি ভক্ত ও তারকা এই পূজনীয় মূর্তি দর্শনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ান। এছাড়া প্রভাদেবী এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরও ভক্তদের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দু।
২. পুনে ও গণপতিপুলের ঐতিহ্যবাহী উদ্যাপন
পুনে মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল। এখানকার ‘শ্রীমন্ত দাগডুশেঠ হালওয়াই গণপতি’ পুরো দেশে তাঁর রাজকীয় রূপ ও আলোকসজ্জার জন্য বিখ্যাত। অন্যদিকে, রত্নাগিরির গণপতিপুলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে সমুদ্র সৈকতের কোল ঘেঁষে অবস্থিত বিখ্যাত স্বয়ম্ভূ গণপতি মন্দির, যেখানে স্বয়ং সৃষ্ট মূর্তিকে ভগবান গণেশের পবিত্র রূপ হিসেবে পুজো করা হয়।
৩. হায়দরাবাদের বিশাল আকৃতির ‘খাইরাতাবাদ গণপতি’
বিশাল ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী মূর্তির জন্য বিখ্যাত তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ। এখানকার খাইরাতাবাদ সার্বজনীন গণেশ মণ্ডপে অত্যন্ত বৃহৎ আকারের মূর্তি তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালে এখানে প্রায় ৬৯ ফুট উঁচু ‘পঞ্চমুখী সংঙ্কটাহারা মহাগণপতি’-র বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেখার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান।
৪. অন্ধ্রপ্রদেশের অলৌকিক কানি পাকম মন্দির
যদি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তবে অন্ধ্রপ্রদেশের কানি পাকমের শ্রী বরসিদ্ধি বিনায়ক স্বামী মন্দির একটি আদর্শ স্থান। এখানকার গণেশ মূর্তিটি অলৌকিকভাবে জলাশয়ের মধ্যে স্বয়ম্ভূ (স্বয়ং আবির্ভূত) হিসেবে পূজিত হন।
৫. গোয়ার পারিবারিক ‘চোভাথ’ ও অনন্য মাটোলি প্রথা
গোয়ায় গণেশ চতুর্থী স্থানীয়ভাবে ‘চোভাথ’ নামে পরিচিত। বড় বড় গণেশ প্যান্ডেলের চেয়ে এখানে পারিবারিক মিলনের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। গোয়ার বিশেষ ঐতিহ্য হলো ‘মাটোলি’ (Matoli)। এই প্রথায় গণেশ মূর্তির মাথার ওপর সিলিংয়ে স্থানীয় মরসুমি ফল, সবজি ও বুনো ফুল-পাতা দিয়ে একটি সুন্দর কৃত্রিম ছাদ সাজানো হয়, যা সেখানকার পরিবেশবান্ধব সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।