মুদ্রাস্ফীতির নতুন আতঙ্ক এল নিনো! বর্ষার ঘাটতিতে কি ফের বাড়বে জিনিসের দাম?

অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল দেশ। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হওয়ার লক্ষণ নেই। ভারতীয় অর্থনীতির আকাশে এখন নতুন কালো মেঘ—‘এল নিনো’। দুর্বল মৌসুমী বায়ু ও বৃষ্টির ঘাটতি ভারতের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির নতুন ঝড়ের সংকেত দিচ্ছে।

কেন এই উদ্বেগ?
ভারতের ৩৩০ বিলিয়ন ডলারের কৃষি অর্থনীতি সরাসরি বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। ভারতের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু থেকে। কিন্তু এই বছর বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৩% কম (২২ জুন পর্যন্ত), যা কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ চাহিদার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিতে এল নিনোর প্রভাব:

মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি: কোয়ান্টইকো রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত ১০ শতাংশ কমলে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে মন্দা: সারের চাহিদা কমা, ট্রাক্টর বুকিং স্থগিত এবং উৎসবের আগে দোকানদারদের কম মজুত—এই বিষয়গুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে গ্রামীণ ভারতের খরচ করার ক্ষমতা কমছে।

মূল্যবৃদ্ধি: ব্যাঙ্ক অফ বরোদার প্রধান অর্থনীতিবিদ মদন সবনভিসের মতে, অক্টোবর নাগাদ হেডলাইন মুদ্রাস্ফীতি ৫.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সহনসীমার কাছাকাছি। এর ফলে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর ফের সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে আরবিআই।

মজুদই কি একমাত্র সুরক্ষা?
ইতিবাচক দিক হলো, ভারতের কাছে শস্যের প্রচুর মজুত বা বাফার স্টক রয়েছে। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এবং মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য নাগেশ কুমার মনে করছেন, এই মজুত ঘাটতির সময়ে বড় সুরক্ষা দেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই মজুত মূলত চাল ও গমের জন্য। ডাল, তৈলবীজ এবং মোটা শস্যের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েই যাচ্ছে, যা ভোজ্য তেলের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারের বিশেষ নজর:
পরিস্থিতি সামলাতে সরকার কোমর বেঁধে নেমেছে। দেশের ৩১৫টি কম বৃষ্টিপাতযুক্ত জেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ১১১টি ‘হাই-প্রাইওরিটি’ এলাকায় ফসল নির্বাচন এবং সেচ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ফসল ও আয় রক্ষার জরুরি পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হয়েছে।

উপসংহার:
বিশ্ববাজারে চাল রপ্তানিতে ভারত বড় ভূমিকা পালন করে। গত বছর খরা পরিস্থিতির কারণে ভারত চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এবারের বর্ষা যদি দীর্ঘস্থায়ী ও অপর্যাপ্ত হয়, তবে বিশ্ব ও ভারতের বাজারে খাবারের দাম কতটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। মুদ্রাস্ফীতির এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরবিআই যে কড়া নজর রাখছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *