‘শ্রমিকদের কথা ভাবুন’, লবিতে শুভেন্দুর কাছে কী আর্জি জানিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ? প্রকাশ্যে এল আসল সত্য

তারাতলা বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর পদক্ষেপের জেরে রাজ্যজুড়ে নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিকের রুজিরোজগার নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
লবিতে কী আর্জি জানিয়েছিলেন কুণাল? বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলা দুর্ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় লবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয় কুণাল ঘোষের। শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই কথোপকথনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিধায়ক। তিনি জানান, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম যে, তারাতলা দুর্ঘটনার পর তাঁর নেওয়া কাজ বন্ধের নির্দেশকে আমি পূর্ণ সমর্থন করি। কিন্তু একইসঙ্গে নির্মাণ শ্রমিকদের কথা মাথায় রাখার আবেদন জানিয়েছিলাম।”
শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ: কুণাল ঘোষ আরও লেখেন, “অনেক গরিব শ্রমিক এই নির্মাণ কাজের ওপর নির্ভরশীল। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে সপরিবারে সাইটে থেকে কাজ করেন। এঁদের দৈনন্দিন আয়ের ওপরই এঁদের অন্নসংস্থান নির্ভর করে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, প্ল্যানে গরমিল বা বেআইনি নির্মাণের দায় সাধারণ শ্রমিকদের নয়, তাই কাজ বন্ধ হলে এঁরা যাতে অনাহারে না পড়েন, সেই বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।”
শুভেন্দুকে ধন্যবাদ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। শ্রমিকদের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “গতকাল বলিনি, আজ বলছি। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।”
বেআইনি নির্মাণ রুখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের রুজিরুটির বিষয়েও যে সরকার সংবেদনশীল, কুণাল ঘোষের এই পোস্টটি সেই বার্তাই দিচ্ছে। আপাতত নির্মাণ শিল্পে বড় ধরনের সংস্কারের পথে এগোচ্ছে রাজ্য।