রাম মন্দির অনুদান তছরুপের অভিযোগ! পদত্যাগ ট্রাস্টের দুই সদস্যের, গ্রেফতার ৮ অভিযুক্ত

রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ তছরুপের অভিযোগে এবার রীতিমতো ভূমিকম্প ট্রাস্টের অন্দরে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কঠোর অবস্থানের জেরে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর দুই সদস্য চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এসআইটি (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে অনুদান পরিচালনায় গুরুতর ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ার পরেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
কী উঠে এসেছে এসআইটি তদন্তে?
মন্দিরে প্রাপ্ত অনুদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে কথিত অনিয়মের তদন্ত করতে উত্তরপ্রদেশ সরকার গত ১৩ জুন একটি তিন সদস্যের এসআইটি গঠন করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে:
নিরাপত্তায় গাফিলতি: মন্দির চত্বর থেকে ট্রাস্টের অফিস এবং ব্যাংক পর্যন্ত অনুদান পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় ছিল দুর্বল সিসিটিভি নজরদারি।
কর্মী নিয়োগে অস্বচ্ছতা: অনুদান গণনার মতো স্পর্শকাতর কাজে আউটসোর্সড বা বাইরের কর্মীদের ব্যবহার করা হয়েছিল, যাদের সঠিক যাচাইকরণ করা হয়নি।
ইনভেন্টরির গরমিল: ভক্তদের দেওয়া সোনা, রুপো এবং মূল্যবান সামগ্রীর মজুত তালিকার সঙ্গে নথিপত্রের বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে।
গ্রেফতার ৮, জারি এফআইআর
ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহন এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই মামলায় অভিযুক্ত আটজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ষড়যন্ত্র এবং ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ ও ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন’-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা বোঝার চেষ্টা করছেন এই আর্থিক অনিয়মের জাল ঠিক কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ
তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রের পদত্যাগ ট্রাস্টের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাম মন্দিরের মতো এক জাতীয় প্রতীকের সাথে জড়িত অনুদানের হিসাবে এই ধরনের অস্বচ্ছতা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যে এই বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করেছেন, তা এই দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট।
আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং মন্দিরের অর্থ ব্যবস্থাপনায় ট্রাস্ট কী ধরনের বড় সংস্কার আনে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে দেশবাসীর।