‘এদের থাকলে দুর্নীতি কমবে না!’ টলিপাড়ার ‘ডান হাত-বাঁ হাত’ নিয়ে সরাসরি নিশানা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর

টালিগঞ্জের রাজনীতি ও টলিপাড়ার অন্দরের সমীকরণে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। অরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই টলিপাড়ার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে পাপিয়া অধিকারী টলিপাড়ার এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
পাপিয়ার বিস্ফোরক দাবি
বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী বলেন, ”একজন মুসলমান ভদ্রলোক আগের বিধায়ক (অরূপ বিশ্বাস) ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের ডান হাত-বাঁ হাত হিসেবে কাজ করতেন। আমি তাঁদের ট্রেড থেকে বিরত থাকতে বলেছি। আমাদের নীতি এখন একটাই—ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট। অর্থাৎ, আগে চিহ্নিত করো, নিজে থেকে বেরিয়ে যাও, আর যদি না শোনো তবে অন্য জায়গায় গিয়ে কাজ খোঁজো।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ”আমি চার-পাঁচজনকে আমাদের ট্রেড থেকে দূরে থাকতে বলেছি। কারণ তাঁরা থাকলে আগের মতো দুর্নীতি বা অনিয়মের ঘটনা চলতেই থাকবে, যা আমাদের কাম্য নয়। যেমন করে আমরা তৃণমূলের কাউকে দলে নিতে চাইছি না, তেমনই ওই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান। তাঁদের সাবধান করা হয়েছে।”
টেকনিশিয়ান ফেডারেশন ও টলিপাড়ার ভবিষ্যৎ
দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। গত ডিসেম্বরে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ফেডারেশনের কর্মপদ্ধতি ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। টলিপাড়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পাপিয়া অধিকারীর এই মন্তব্য রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। টলিপাড়া থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার এই অভিযানে পাপিয়া অধিকারী কতটা সফল হন এবং আগামী এক বছরে টলিপাড়ার পরিবেশ কতটা পরিবর্তন হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।