বিয়ের আসরে মদ্যপ বর, কনের সাহসী সিদ্ধান্তে তোলপাড়! প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুলিশ

বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে বরের মদ্যপ চেহারা দেখেই বিয়ে ভেঙে দিলেন কনে। শুধু তাই নয়, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে তিনি প্রমাণ করলেন, নিজের সম্মান ও ভবিষ্যতের ওপর আপস কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চাম্পা জেলার মুসকান প্রধানের এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশ।
কী ঘটেছিল বিয়ের আসরে? রিপোর্ট অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠানের আসরে বরকে অসংলগ্ন ও অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় দেখতে পান ২২ বছর বয়সী মুসকান। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এমন একজনের সাথে তিনি সারা জীবন কাটাতে পারবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে ব্যাপক হট্টগোল ও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তবে সমস্ত চাপ উপেক্ষা করে মুসকান তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
প্রশংসায় ভাসছেন তরুণী মুসকানের এই দৃঢ় ও সাহসী অবস্থানের কথা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা জুড়ে চর্চা শুরু হয়। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাঞ্জগির-চাম্পার পুলিশ সুপার বিজয় কুমার পান্ডে। তিনি মুসকানকে দপ্তরে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানান এবং তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা মুসকান জানান, তিনি আর বিয়ে নিয়ে ভাবছেন না। এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানো। মদ্যপানের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একজন সাধারণ তরুণীর এই লড়াই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বহু মানুষ তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপকে নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।