জঙ্গি হামিম মণ্ডলের নাগপাশে কে এই অর্পিতা? গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযানে চাঞ্চল্যকর সাফল্য পুলিশের

রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর বড়সড় হামলার ছক কষার অভিযোগে ধৃত সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের (Hamim Mondal) পর এবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল তাঁর রহস্যময়ী বান্ধবী অর্পিতা সরকার।
শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী পুলিশ বাহিনী। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি হামিমকে টানা জেরা করার পরেই অর্পিতার নাম প্রকাশ্যে আসে এবং তাঁকে পাকড়াও করার সিদ্ধান্ত নেন গোয়েন্দারা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক অনুমান, নিজস্ব জঙ্গি কার্যকলাপের নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে এবং গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কৌশলে এই তরুণীকে ব্যবহার করত ধৃত হামিম।
সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
গত শুক্রবারই সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, একেবারে সুপরিকল্পিতভাবে খাস পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার মারাত্মক ছক কষেছিল এই জঙ্গি চক্র। শুধু তাই নয়, গোপন সূত্রে খবর মিলেছে যে অতীতে পাকিস্তান সফর করে সেখানে গিয়ে সরাসরি লস্কর বা জইশ ঘরানার বিপজ্জনক জঙ্গি প্রশিক্ষণও নিয়ে এসেছিল এই হামিম। কিন্তু অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সে সাধারণ মানুষের ভিড়ের মধ্যে এমনভাবে মিশে থাকত যে আশেপাশের কেউই তাঁর এই ভয়ংকর রূপ বা গোপন অভিসন্ধির বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেনি। কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে এই সাধারণ ছদ্মবেশের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি
আর এবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং এই নাশকতার নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক বা দেশীয় জঙ্গি যোগের গভীরে প্রবেশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি। ধৃত অর্পিতাকে জেরা করে এই গভীর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে, তা খুব শীঘ্রই পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।