“আর কোনোদিন ভালো থাকতে পারব না!” ছেলের অকালমৃত্যুর ক্ষত নিয়ে কি বললেন রাহুল অরুণোদয়ের মা?

প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে ফেলা একজন মায়ের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ২৯ মার্চ বালাসোরে শুটিংয়ের মাঝেই অকালমৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের। সেই শোক আজও টাটকা। সম্প্রতি শহরে আয়োজিত ‘অনেকদিন পর’ ছবির বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন রাহুলের মা। সেখানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভিড়েও যেন এক গভীর বিষণ্ণতা তাঁর চোখেমুখে।

“আমি আর ভালো থাকতে পারব না”
স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি জানান, দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা আর এক গভীর ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। প্রিয়জনদের অনুরোধে প্রিয়াঙ্কা সরকার কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ডাকেই মাঝেমধ্যে বাইরে পা রাখছেন। প্রসেনজিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মা বলেন, “প্রসেনজিৎ খুব খোঁজ নেয়, বাড়ি গিয়ে চিঠি দিয়ে এসেছে। ওদের কথা ফেলতে পারলাম না।” অগস্ট মাসে বড় ছেলে অনির্বাণের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, রাহুলের স্মৃতিজড়িত এই শহরই তাঁর ঘর।

রাহুল মৃত্যু রহস্য ও সিআইডি তদন্তের দাবি
রাহুল অরুণোদয়ের অকালমৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছিল। ঘটনাচক্রে সম্প্রতি দিঘার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গ তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, মামলাটি বর্তমানে কেবল ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে, যা চরম অন্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওড়িশার সরকার সিট (SIT) গড়েছে। আমি এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছি, প্রশাসন যেন দ্রুত ডিরেক্টর জেনারেলের মাধ্যমে হোম সেক্রেটারিকে জানায়। আমরা চাই এই মামলাটি সিআইডি (CID) তদন্ত করুক।”

বিচার পাওয়ার লড়াই
বালাসোরের শুটিং স্পটে জলে তলিয়ে গিয়ে রাহুলের এই অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছেন।

রাহুলের চলে যাওয়ার পর বাংলার মানুষ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মায়ের চোখের জল আর শুভেন্দু অধিকারীর এই আশ্বাসে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রকৃত দোষীরা কি শেষপর্যন্ত শাস্তি পাবে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *