তারাতলা বিপর্যয়ে বিধানসভায় উত্তাপ! কোরাম নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের, মানবিক আহ্বানে শান্ত করলেন অধ্যক্ষ

তারাতলার ভয়াবহ গোডাউন ধসের ঘটনার আঁচ পড়ল রাজ্য বিধানসভাতেও। বুধবার অধিবেশন চলাকালীন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই বিধানসভার অন্দরে তৈরি হয় এক নাটকীয় পরিস্থিতি।

অধিবেশনে বিতর্ক: দুর্ঘটনা স্থলে উদ্ধারকাজ তদারকি করতে একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়ক ব্যস্ত থাকায় বিধানসভায় মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সদস্য মহম্মদ আখরুজ্জামান এবং প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মন্ত্রীদের অনপস্থিতিতে বিধানসভার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ‘কোরাম’ বজায় থাকছে কি না। এটি নিয়ে বিরোধীরা সরব হলে অধিবেশনে সাময়িক উত্তাপ ছড়ায়।

সরকারের সাফাই: পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বিরোধীদের আশ্বস্ত করে বলেন, শহরের বুকে ঘটা এক বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে মন্ত্রীদের ঘটনাস্থলে থাকা জরুরি ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোরাম নিয়ে কোনো সমস্যা নেই এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনেই বিধানসভার কাজ চলছে।

অধ্যক্ষের মানবিক আবেদন: এই উত্তপ্ত মুহূর্তের মধ্যেই হস্তক্ষেপ করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। তিনি গোটা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত সকল সদস্যকে মনে করিয়ে দেন যে, এটি কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সময় নয়। অধ্যক্ষ বলেন:

“শহরে এক ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এই চরম সংকটজনক মুহূর্তে আমি সকল সদস্য এবং বিশেষ করে বিরোধীদের কাছে পূর্ণ সহযোগিতা আশা করছি। এই মানবিক বিপর্যয়ে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সরকারের পাশে দাঁড়ানোই এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য।”

বর্তমান পরিস্থিতি: অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর এই মানবিক আবেদনে অধিবেশনে সাময়িক শান্তি ফেরে। যদিও বিরোধীরা কোরাম ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তবে অধ্যক্ষের বার্তার পর মানবিক দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সরকারিভাবে এখনও তারাতলার নাম নিয়ে বিবৃতি দেওয়া না হলেও, বিধানসভার অন্দরে যে পুরো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তারাতলার ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তা নিয়ে কারোর মনে কোনো সংশয় ছিল না।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বিধানসভার এই ঐকমত্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *