রণক্ষেত্র ক্যানিং! পুলিশ ভ্যান ঘিরে ইটবৃষ্টি, হাতুড়ে চিকিৎসক কাণ্ডে চরম উত্তেজনা এলাকায়

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ভুল চিকিৎসার গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত এক হাতুড়ে চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং বলপ্রয়োগ করে ওই হাতুড়ে চিকিৎসককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যানিং চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষপর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন করতে হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল ক্যানিংয়ে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যানিং এলাকার এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে ওই ভুয়ো চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার জেরে মহিলার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।

এই মর্মান্তিক খবর এলাকায় চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তাঁরা অভিযুক্ত হাতুড়ে ডাক্তারের কঠোর শাস্তির দাবিতে ক্যানিংয়ের রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে দেখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ক্যানিং থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

পুলিশ ভ্যান ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং একটি গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ির পথ আটকায়। ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবর্ষণ শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ভ্যান থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই সংঘর্ষে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়ায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে অত্যন্ত সংযত অথচ কঠোর অবস্থান নিতে হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ পৌঁছয় এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসককে নিরাপদে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃত মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। এই ধরনের বেআইনি ও ভুয়ো চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে এলাকায় আগামী দিনে আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *