“কেউই সাঁতার জানত না!” বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে গঙ্গার জলে একে একে তলিয়ে গেল চার তরুণ, কান্নায় ভাঙল পরিবার

কানওয়ার যাত্রা সফলভাবে শেষ করে বাড়ি ফেরার আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হলো। হরিদ্বারে পবিত্র গঙ্গায় স্নান করতে নেমে জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে চণ্ডীগড় থেকে যাওয়া চার কিশোরের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত চারজনই চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩০/বি এবং সেক্টর ২৬-এর বাপু ধাম কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে দু’জন আবার তাঁদের পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন, যা গোটা এলাকায় এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল হরিদ্বারে?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে হরিদ্বারের জ্বালাপুর থানা এলাকার জাটওয়াড়া সেতুর কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ১৭ জনের একটি তরুণ দল কাওয়ার যাত্রায় অংশ নিতে গত ২৮ জুলাই চণ্ডীগড় থেকে হরিদ্বার রওনা হয়েছিল। যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করে ৩১ জুলাই যখন তাঁরা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। জাটওয়াড়া সেতুর কাছে গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করতে নামেন ওই চার কিশোর— ভারত ওরফে বিট্টু, নীতীশ, শিবাংশু এবং রোহিত

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জলে নামা চারজনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল ভারত ওরফে বিট্টু। সে জলে একটু বেশি গভীরের দিকে এগিয়ে যায় এবং জলের গভীরতা বুঝতে না পেরে ভারসাম্য হারিয়ে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বিট্টুকে বিপদে পড়তে দেখে তাকে বাঁচানোর জন্য বাকি তিনজন বন্ধুও সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসে। কিন্তু একে অপরকে রক্ষা করতে গিয়ে তারাও গঙ্গার শক্তিশালী স্রোতের টানে গভীর জলে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ওই চার কিশোরের কেউই সাঁতার জানত না। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের মুহূর্তটি এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়।

উদ্ধারকাজ ও পরিবারের শোক

খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নদী থেকে চার কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহগুলিকে স্থানীয় মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৃতদের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন যে, এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় চণ্ডীগড়ের সংশ্লিষ্ট কলোনিতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। বিশেষ করে যাঁদের সন্তান পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিল, তাঁদের পরিবারের কান্নার রোল কিছুতেই থামছে না।

এদিকে, হরিদ্বারের স্থানীয় কাউন্সিলর তরুণা মেহতা এবং তাঁর স্বামী যাদবিন্দর মেহতা দ্রুত শোকাহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে ছুটে যান এবং তাঁদের গভীর সমবেদনা জানান। কাউন্সিলর তরুণা মেহতা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এই অভাবনীয় ক্ষতি পরিবারগুলি মেনে নিতে পারছে না। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বিট্টুর মা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পবিত্র কাওয়ার যাত্রার সমাপ্তি লগ্নে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা গোটা উত্তরাখণ্ড ও চণ্ডীগড়জুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *