টানা ৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টা, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হলেন আরও ১ জন

ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। বুধবার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে চাপা পড়ে গেলেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের উদ্ধারে নামানো হয়েছে সেনা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, টানা ৫ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টায় ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আজ ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীন হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ গুদামটির ছাদ। ঠিক সেই সময় নিচে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৬০ জন শ্রমিক। ভারী বৃষ্টির জেরে নির্মাণাধীন কাঠামোটি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ: ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং দমকল। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় উদ্ধারকাজে তলব করা হয় সেনাবাহিনীকে। বড় ক্রেন এবং গ্যাস কাটার ব্যবহার করে লোহার কাঠামো কেটে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা চলছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে নবান্নে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও অভিযোগ: ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নিয়ম না মেনেই কাজ চলছিল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, ইন্দ্রনীল খাঁ এবং বিজেপি নেতা রাকেশ সিং।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “চলতি বছরেই এই বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। জমির মালিক বেহারা ব্রাদার্স। প্রাথমিক তদন্তে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, বিল্ডিং প্ল্যানে বড়সড় ত্রুটি ছিল। চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন উঠছে: বারবার শহর কলকাতায় নির্মীয়মাণ অট্টালিকা ধসের নেপথ্যে কি তবে পরিকাঠামোর গলদ? কেন নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ প্রশাসন।