খালের জলে ভাসছে গাড়ি, ভেতরে স্ত্রীর লাশ! পাতিয়ালায় ভারতীয় জওয়ানের এই ভয়ংকর কীর্তি শুনলে শিউরে উঠবেন

সীমান্ত পাহারা দিয়ে যিনি দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন, তিনিই কি না নিজের ঘরে থাকা ভালোবাসার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিলেন! পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলা থেকে সামনে এলো এক শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত এক ভারতীয় সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে তাঁর নিজের স্ত্রীকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই হত্যাকাণ্ডকে একটি সাধারণ ‘পথ দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের স্ত্রীকে চলন্ত গাড়িতে বসিয়েই উপচে পড়া ভাকরা খালে গাড়িটি নামিয়ে দেন ওই জওয়ান। নিজে পেশাদার সাঁতারু হওয়ায় গেট খুলে সাঁতরে নদী থেকে বেঁচে ফিরলেও, খালের গভীর জলে গাড়ির ভেতরেই আটকে থেকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ছটফট করতে করতে মারা যান তাঁর স্ত্রী।
প্রেমের বিয়েতে মা-বাবার আপত্তি, নিত্যদিনের অশান্তি
অভিযুক্ত ওই সেনাসদস্যের নাম হ্যাপি সিং, তিনি মানসার বাসিন্দা। পুলিশি তদন্ত এবং মৃতার ভাই গুরজিৎ সিংয়ের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, হ্যাপি সিং এবং নিহত রমনদীপ কৌরের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অমতেই গত ২০২৪ সালে তাঁরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন।
তবে হ্যাপির বাবা-মা এই বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নেননি এবং রমনদীপকে নিজেদের বাড়িতে রাখতেও অস্বীকার করেন। এই নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়শই তীব্র অশান্তি ও ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত। নিত্যদিনের এই পারিবারিক সংঘাত এড়াতে তাঁরা কিছুদিন ধরে সাঙ্গরুরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
পাসিয়ানা ব্রিজের সেই অভিশপ্ত রাত ও জওয়ানের ‘কোল্ড-ব্লাডেড’ প্ল্যান
তদন্তে জানা গেছে, গত ২৩শে জুন (২০২৬) রাতে হ্যাপি সিংয়ের সাথে তাঁর স্ত্রী রমনদীপের আবারও কোনো বিষয় নিয়ে বড়সড় অশান্তি হয়। রাগের মাথায় হিমশীতল মাথায় এক ভয়ংকর খুনের ছক কষে হ্যাপি। সে জোর করে রমনদীপকে গাড়িতে বসিয়ে পাতিয়ালার পাসিয়ানা ব্রিজের দিকে রওনা দেয়।
রাত গভীর হলে চারপাশের নীরবতার সুযোগ নিয়ে হ্যাপি গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয় এবং সরাসরি গাড়িটি গভীর ভাকরা খালে নামিয়ে দেয়। গাড়িটি জলে পড়ার সাথে সাথেই হ্যাপি সিং চালাকি করে নিজের দিকের গেট খুলে সাঁতরে নিরাপদে পাড়ে উঠে আসে। কিন্তু রমনদীপ গাড়ির ভেতরেই লক হয়ে যান এবং তীব্র জলের টানে খালের অতলে তলিয়ে যান।
খালের জলে ভাসছিল গাড়ি, যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন খুনে জওয়ান
পাসিয়ানা থানার এসএইচও (SHO) গুরপ্রীত সিং সাংরাও জানিয়েছেন, বুধবার সকালে এক স্থানীয় যুবক খালের জলে একটি গাড়ি ভাসতে দেখে তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন। ঘটনা জানা মাত্রই ডুবুরিদের একটি দল নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্রেন ও ডুবুরিদের সাহায্যে গাড়িটিকে জল থেকে টেনে তোলা হয় এবং ভেতর থেকে রমনদীপ কৌরের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
বোনের এই রহস্যজনক মৃত্যুর পর নিহতের ভাই গুরজিৎ সিং সরাসরি জামাইবাবুর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সেনাসদস্য হ্যাপি সিংয়ের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যার মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই নৃশংস ষড়যন্ত্রে হ্যাপির পরিবারের অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানতে ধৃত জওয়ানকে রিমান্ডে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।