সাবধান! ধাবায় চা খাচ্ছেন? ঝাড়খণ্ডের জাতীয় সড়কে চায়ের সঙ্গে মিশছে নিষিদ্ধ ‘ডোডা’!

ঝাড়খণ্ডের জাতীয় সড়কগুলোর ধারে অবস্থিত ধাবা ও খাবারের দোকানগুলো এখন পুলিশের কড়া নজরদারিতে। তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—দূরপাল্লার গাড়িচালক ও যাত্রীদের পানীয়তে নেশার সামগ্রী হিসেবে মেশানো হচ্ছে ‘ডোডা’ বা পপি হাস্ক (আফিমের খোসা)। ঝাড়খণ্ড পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়েছে উত্তর ভারত জুড়ে বিস্তৃত এক বিশাল আন্তঃরাজ্য ড্রাগ পাচারচক্র।

নেশার মরণফাঁদ: ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর, পলামু জেলা থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং রাজস্থান পর্যন্ত এই পাচারচক্রের জাল বিছানো রয়েছে। নেশাসক্ত করে তোলার জন্য ধাবাগুলোতে চায়ের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে পপি হাস্কের গুঁড়ো। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার হওয়া পাচারকারীরা স্বীকার করেছে যে, পঞ্জাব ও হরিয়ানার অনেক এলাকায় এই পপি হাস্কের নেশা খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করা হয়।

বিপুল মুনাফার অবৈধ ব্যবসা: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এই অবৈধ ব্যবসার ভয়াবহ আর্থিক চিত্র:

  • মূল্য: ঝাড়খণ্ডে প্রতি কেজি পপি হাস্ক কেনা হয় মাত্র ১,৫০০ টাকায়।

  • বিক্রয়মূল্য: সেই একই পণ্য ভিনরাজ্যে পাচার করে বিক্রি করা হচ্ছে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ, বিপুল মুনাফার লোভে জাতীয় সড়ক ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে মাদক কারবারিরা।

পুলিশের কঠোর অভিযান: ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পলামু পুলিশ সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মহাম্মদ চাঁদ ও জিশান নামে উত্তরপ্রদেশের বরেলির দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১০০ কেজি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য। গত কয়েক বছরে কয়েকশো একর জমির অবৈধ আফিম চাষ ধ্বংস করা হলেও, পাচারকারীরা নিত্যনতুন ফন্দি এঁটে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

সতর্কবার্তা: পপি বীজ বা পোস্তদানা বাঙালির রান্নায় অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি উপাদান হলেও, নেশার সামগ্রী হিসেবে ‘ডোডা’ বা পপি হাস্কের ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দূরপাল্লার যাত্রীদের প্রতি প্রশাসনের আর্জি, হাইওয়ের ধাবাগুলোতে খাবার বা পানীয় গ্রহণের সময় বাড়তি সতর্ক থাকুন। যেকোনো অস্বাভাবিক স্বাদের চা বা খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *