‘সুরহাওয়ার্দির নাম থাকবে না’, বিধানসভায় ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের রাস্তার নামকরণ নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার পুরনো নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন স্বামী প্রদীপানন্দ মহারাজ।
বিধানসভায় এদিন সুরহাওয়ার্দির নাম নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কলকাতার রাস্তায় কোনোভাবেই বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের নাম রাখা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি যখন পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাই, সুরহাওয়ার্দির নামে রাস্তার নাম দেখি। আমি চাই না ওই নাম থাকুক। যদি কোনো প্রকৃত দেশভক্ত, যেমন ড. এপিজে আবদুল কালামের নামে নামকরণের প্রয়োজন হয়, তখন বিবেচনা করা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই কলকাতাতে কোনো মোগল-পাঠানের নাম থাকবে না। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া অন্য কোনো বিদেশির নামে রাস্তা করতে গেলে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।”
কমিটির দায়িত্ব ও রূপরেখা: মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বামী প্রদীপানন্দ মহারাজের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নামকরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই কমিটিতে যে কোনো ব্যক্তি নিজের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। রাজ্যের ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই কলকাতার পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তার নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ রাখা হয়েছে। গত ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রাক্কালে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময় প্রাণ বাঁচানো গোপাল মুখার্জিকে সম্মান জানাতেই এই নামকরণ।
যদিও রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, ওই রাস্তাটি মুসলিম লিগ নেতা হুসেন শহীদ সুরাহাওয়ার্দির নামে ছিল না, বরং ছিল তাঁর কাকা হাসান সুরাহাওয়ার্দির নামে। হাসান সুরাহাওয়ার্দির ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ইতিহাসবিদদের দাবি, ১৯৩২ সালে তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাসের হাত থেকে বাঁচাতে অস্ত্র কেড়ে নিয়েছিলেন এই হাসান সুরাহাওয়ার্দি। সেই ঘটনার স্বীকৃতি হিসেবেই ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নাইট’ উপাধি দেয়।
এখন দেখার, স্বামী প্রদীপানন্দ মহারাজের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি রাজ্যের ইতিহাসের এই জটিল সমীকরণ ও নামকরণের বিবাদ কীভাবে সমাধান করে।