‘ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে …?”-কুণাল-ঋতব্রতর লড়াইয়ে শুভেন্দুর বড় বার্তা

বিধানসভার অন্দরে মঙ্গলবার সাক্ষী থাকল এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সমীকরণের। একদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, অন্যদিকে নতুন ‘বিরোধী’ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—এই দুই মেরুর মধ্যে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিন বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা চলাকালীন পরিস্থিতি কার্যত রাজনৈতিক বিতর্কের আখড়ায় পরিণত হয়। কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্লোগান থেকে শুরু করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাত্ত্বিক বক্তব্য—সব মিলিয়ে বিধানসভার পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। এরই মাঝে আলোচনার মোড় ঘুরে যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে ওঠেন।
রাজনৈতিক সংঘাতের মাঝে শুভেন্দু অধিকারী কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের যদি ঋতব্রত বা সন্দীপন সাহাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে আমাকে জানান। আমি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘আশ্বাস’ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। শাসক দলের অন্দরের দ্বন্দ্ব কি তবে নবান্নের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেল? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মুখে।
পাশাপাশি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঋতব্রতকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “আপনার বক্তৃতা কোনোভাবেই পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতার মতো ছিল না। আপনার মস্তিষ্কে কার্ল মার্কস আর হৃদয়ে লেনিন বা মাও সে তুং। যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলে দেগে দিয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে উপদেশের প্রয়োজন নেই।”
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম বিধানসভার অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারিত (লাইভ স্ট্রিমিং) হচ্ছে। ফলে বিধানসভার ভেতরের এই বিতর্ক সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন রাজ্যবাসী। বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের অন্দরের এই সংঘাত এবং মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে একদিকে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিরোধ এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ভূমিকা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।