‘পালাতে চাইলে এখনই পালান’, অনুপ্রবেশকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিধানসভার ফ্লোর থেকে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যের মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উৎখাতে তাঁর সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী বহিষ্কার: এদিন মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, ইতিমধ্যেই ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১,৮০০ জন অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, যাদের ধাপে ধাপে সীমান্ত পার করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যাঁরা অনুপ্রবেশকারী, তাঁরা অনুপ্রবেশকারীই। তাঁদের পরিচয় নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা নেই। আমরা ভারত সরকারের আইন কার্যকর করেছি— ধরো এবং বিএসএফের হাতে তুলে দাও। কোনও জেল নয়, সরাসরি ফেরত পাঠানোই আমাদের নীতি।”

করদাতাদের অর্থের সুরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী: অনুপ্রবেশকারীদের ওপর রাজ্যের সম্পদ ব্যয়ের বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যের করদাতাদের অর্থ রাজ্যের প্রকৃত নাগরিকদের কল্যাণের জন্যই সংরক্ষিত। তিনি বলেন, “আমাদের টাকাতে অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রীর সূর্যঘর, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা চলবে। বেকারদের কর্মসংস্থান হবে, পরিকাঠামোর উন্নয়ন হবে। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের অন্ন-বস্ত্র-ঔষধের পেছনে জনগণের টাকা খরচ করা যাবে না।”

ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী: মুখ্যমন্ত্রী এদিন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “যদি আপনি মনে-প্রাণে ভারতীয় হন, তবে আপনার দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি যে দলই করুন বা যে ধর্মই মানুন, আপনার ওপর কোনো আঁচ আসবে না। তবে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির নামে অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিএসএফ: সীমান্ত সুরক্ষা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিএসএফ-এর কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা কাঁটাতারের আওতায় আসবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

পূর্বতন সরকারের বিএসএফ-বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী শেষমেশ অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এক কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ হওয়ার আগেই যারা পালাতে চান, তারা পালিয়ে যান। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে অনেকেই ইতিমধ্যে চলে গেছেন। আপনাদের পরিচিত কেউ থাকলে তাদেরও বলে দিন, সময় থাকতেই সরে পড়তে।”

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং বাংলাকে সুরক্ষিত রাখাই যে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য, এদিন বিধানসভার ভাষণে তা আরও একবার পুনর্ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *