মমতার TMC-র কমিটি, বিদ্রোহীদেরও TMC-র পৃথক কমিটি, কোন তৃণমূলে কে কোন পদে?

তৃণমূল কংগ্রেস কি তবে দুভাগ হতে চলেছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়েই তৈরি হলো ‘নব্য তৃণমূলের’ নতুন কমিটি। সোমবার বিকেলে শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত এক ‘বিশেষ অধিবেশনে’ এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠেছে—তৃণমূলের অন্দরের লড়াই কি তবে চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে?

নতুন কমিটিতে কারা?

ঋতব্রতপন্থীদের গঠিত ৩০ জনের এই ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিতে চমকপ্রদ সব নাম রয়েছে। এতে সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। সাধারণ সম্পাদক পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দায়িত্ব পেয়েছেন সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও বিপ্লব মিত্র। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিনের মতো হেভিওয়েটদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

বিদ্রোহীদের দাবি ও লক্ষ্য:

মাত্র ৩০ মিনিটের এই বিশেষ অধিবেশনে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন বলে খবর। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, “আমরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় গঠনতন্ত্র মেনেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে এবং কলকাতায় দলীয় অফিসও খোলা হবে।”

কালীঘাটের প্রতিক্রিয়া:

তবে ‘নব্য তৃণমূলের’ এই দাবিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করেছে কালীঘাট। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, দলের একটি নির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র রয়েছে এবং এভাবে কোনো কমিটি গঠন করা আইনত বৈধ নয়। কালীঘাট এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ বা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে।

তৃণমূলের অন্দরে দুই মেরু:

ইতিমধ্যেই কালীঘাটের মূল কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এর বাইরে ২৪ জনের ওয়ার্কিং কমিটিতে ডেরেক ও’ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্রের মতো সিনিয়র নেতাদের রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে? একদিকে কালীঘাটের শক্ত ঘাঁটি, অন্যদিকে বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে ঋতব্রতদের নতুন কমিটির ঘোষণা—রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ‘ক্ষমতার লড়াই’ এখন তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দখল কার হাতে থাকবে। বাংলার রাজনীতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়, যা পরবর্তী সময়ে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *