অযোধ্যায় অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ: মন্দিরের দানবাক্সে এখন কী অবস্থা?

অযোধ্যা রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশে। মন্দিরের ট্রাস্ট ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ভক্তদের মনে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই বিতর্ক কি রাম ভক্তদের অনুদানের উৎসাহে ভাটা ফেলতে পেরেছে? নাকি দেবতার প্রতি অটুট বিশ্বাস আস্থার সংকটকে ছাপিয়ে গেছে?
অভিযোগ উঠেছে যে, বহু দাতা অনুদান দিয়েও পাননি কোনো রসিদ। এর মধ্যে একজন দাতা ২০০টি রুপোর ইট দেওয়ার পরেও কোনো প্রমাণপত্র না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ সোনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী দান করেও রসিদ পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন। এই ধরণের ঘটনায় দাতা ও ভক্তদের মনে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
অনুদান কি কমছে? সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও রাম মন্দিরে দানের পরিমাণ সন্তোষজনক। জুন মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা দান হিসেবে জমা পড়ছে। তবে দানের ধরণ ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ভক্ত এখন কাউন্টার বা ডিজিটাল পেমেন্টের চেয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে রাখা দানবাক্সে সরাসরি নগদ টাকা দেওয়াকেই বেশি পছন্দ করছেন।
দানবাক্সের সামনে নীরবতা! খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরের ভেতরে কিছু নির্দিষ্ট দানবাক্সের আশেপাশে ভক্তদের আনাগোনা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। দীর্ঘস্থায়ী তীব্র গরমের কারণে ভক্তদের সমাগম কিছুটা কম হলেও, দানের পরিমাণে বড় কোনো ঘাটতি নেই বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। অর্থাৎ, সাধারণ ভক্তদের মনে মন্দিরের ট্রাস্টের প্রতি কিছুটা সংশয় থাকলেও, রামলালার প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি এতটুকু কমেনি।
কেন এই সতর্কতা? বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতার অভাবে ভক্তরা এখন একটু রয়েসয়ে দান করছেন। অনেকেই দান কাউন্টারে গিয়ে ডিজিটাল রসিদ নেওয়া এড়িয়ে চলছেন, কারণ সাম্প্রতিক অনিয়মের খবরগুলো তাঁদের আস্থায় আঘাত করেছে। রাম মন্দিরের এই বিতর্কিত পরিস্থিতি এখন তদন্তসাপেক্ষ। তবে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত ভক্তদের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সাবধানতা মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিচ্ছে।