ছবি নেই মমতার! ঋতব্রতদের ‘আসল’ তৃণমূলে বড় পদক্ষেপ, সাসপেন্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন অস্থিরতা! সোমবার বাজেট অধিবেশন চলাকালীনই তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন চরমে পৌঁছাল। নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে গঠিত ‘আসল’ তৃণমূল গোষ্ঠী।

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: এককালের ‘সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মোড়। বিদ্রোহী নেতাদের দাবি, তাঁদের এই গোষ্ঠীর কাছেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত সমর্থন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নিউটাউনের এই বৈঠকের কোথাও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি রাখা হয়নি। পরিবর্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর অম্বেদকরের ছবির উপস্থিতিতে এই গোষ্ঠী নিজেদের তৃণমূলের আসল উত্তরাধিকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

নতুন কমিটি ও সমীকরণ: বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক অরূপ রায়কে। এছাড়া দলের বিভিন্ন পদেও রদবদল আনা হয়েছে। বিধায়ক ও সাংসদের পর এবার কলকাতা পুরসভার ৫০-এর বেশি প্রাক্তন কাউন্সিলর এই বিদ্রোহে সামিল হওয়ায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল।

অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলার চাপ: সাসপেনশনের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলতা থানায় আমফানের ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর নাম জড়ানোয় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)-এর দায়ের করা এই মামলায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের আগে তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করল। এই পরিস্থিতির পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের নিউজ পোর্টালে চোখ রাখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *