তৃণমূলের অন্দরে কি ভাঙন চূড়ান্ত? পর্দা ঘেরা বাসে কাউন্সিলরদের নিয়ে হোটেলে ‘আসল তৃণমূল’

রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল। একদিকে বিধানসভায় বাজেট নিয়ে চর্চা, অন্যদিকে কলকাতার বুকে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের নিয়ে রহস্যময় বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা। সোমবার দুপুরে প্রিন্সেপ ঘাট থেকে পর্দা ঘেরা বাসে করে তৃণমূলের একঝাঁক কাউন্সিলরকে নিউ টাউনের একটি অভিজাত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়, আর সেই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে বিরোধী দলনেতা তথা ‘আসল তৃণমূল’-এর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী জানা যাচ্ছে এই বৈঠক নিয়ে? সূত্রের খবর, এদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন কাউন্সিলর ওই হোটেলে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে কলকাতা পুরনিগমের কাউন্সিলর রয়েছেন অন্তত ৫০ জন। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের আরও দুটি জেলার জনপ্রতিনিধিরা। সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান এবং দেবাশিস কুমারের মতো হেভিওয়েট নেতারাও। তবে যা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তা হলো খোদ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি। এমনকি, দলীয় প্রতীক দখলের আইনি পরামর্শ নিতে দিল্লি থেকে আইনজীবীকেও ডেকে আনা হয়েছে বলে খবর।
কেন এই বৈঠক? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটের দিনই এই ধরণের বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। দলীয় প্রতীক নিয়ে মমতার থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করা ঋতব্রত শিবিরের এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরসভার সাংগঠনিক প্রস্তুতি, জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী নেতাদের একজোট করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে।
তৎপরতা তুঙ্গে: প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাসে করে কাউন্সিলরদের এভাবে হোটেলে নিয়ে যাওয়া— পুরো বিষয়টিই ছিল অত্যন্ত গোপনীয়তায় মোড়া। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না মিললেও, এই বৈঠক যে রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। কালীঘাটে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্দরমহল সামলাতে তৎপর, ঠিক তখনই নিউটাউনের হোটেলে ঋতব্রতর এই ‘শক্তির প্রদর্শনী’ তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বাজেট পরবর্তী এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় বাংলার রাজনীতি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।