গোয়ায় খনি দুর্নীতি: সালগাঁওকর গ্রুপের ১,০২৩ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি, সিঙ্গাপুরেও সম্পত্তি!

গোয়ার অবৈধ লৌহ আকরিক উত্তোলন ও অর্থ পাচারের মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সালগাঁওকর গ্রুপ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর মোট ১,০২৩.৮৫ কোটি টাকার সম্পত্তি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রবিবার ইডি-র তরফ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বিস্তারিত
অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে (PMLA) গত ১৯ জুন এই বাজেয়াপ্তি আদেশ জারি করা হয়। ইডি-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত সম্পদের তালিকা বেশ দীর্ঘ:
ভারতে: ৯৯টি স্থাবর সম্পত্তি (মূল্য ৪৫৯.১০ কোটি টাকা)।
সিঙ্গাপুরে: ৩১টি স্থাবর সম্পত্তি (মূল্য ৪৭১.৩২ কোটি টাকা)।
অন্যান্য: ভারতীয় বিভিন্ন সংস্থায় ৯৩.৪২ কোটি টাকার ইক্যুইটি শেয়ার।
এই সম্পত্তিগুলো মূলত প্রয়াত অনিল সালগাঁওকরের এস্টেট এবং তাদের বিভিন্ন খনি শিল্প ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে ছিল।
দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র: যেভাবে চলত কারবার
ইডি-র তদন্ত অনুযায়ী, এই দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ৫,২৩৭ কোটি টাকা। সংস্থার অভিযোগ:
১. ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১০টি খনির ইজারা থেকে অবৈধভাবে লৌহ আকরিক উত্তোলন, বিক্রয় ও রপ্তানি করা হয়।
২. ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের শেল কোম্পানিগুলোতে অত্যন্ত কম দামে এই আকরিক রপ্তানি করা হতো।
৩. এরপর সেই আকরিক চীনে বেশি দামে পুনরায় বিক্রি করে বিপুল মুনাফা (প্রায় ২,৭৪৪ কোটি টাকা) অর্জন করা হতো।
৪. এই অপরাধমূলক অর্থ বিদেশে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনার পাশাপাশি শেয়ার মূলধন হিসেবে ভারতে ফিরিয়ে আনা হতো।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
গোয়া পুলিশের সিআইডি-র দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের নভেম্বরের পর গোয়ায় খননকাজ অবৈধ ছিল। সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এই বিশাল আর্থিক দুর্নীতি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ইডি-র এই সাহসী পদক্ষেপ খনি মাফিয়াদের চক্র ভাঙতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তদন্তে ভবিষ্যতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।