১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় যোগাসনে ‘হিমবীর’! প্যাংগং সো-এর তীরে আইটিবিপি জওয়ানদের অনন্য আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লবণাক্ত জলের হ্রদ ‘প্যাংগং সো’। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড—এই প্রতিকূল পরিবেশেই রবিবার উদযাপিত হলো দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ভারত-চিন সীমান্তে এলএসি (LAC) বরাবর দেশরক্ষায় নিয়োজিত আইটিবিপি (ITBP)-র ৪৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা হিমালয়ের কোলে যোগব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক সহনশক্তি ও মানসিক দৃঢ়তার অনন্য নজির গড়লেন।

কেন এই উদ্যোগ?
‘হিমবীর’ নামে পরিচিত আইটিবিপি জওয়ানরা বিশ্বের অন্যতম কঠোর জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে দিনরাত সীমান্ত পাহারা দেন। হিমবাহ আর বরফে ঢাকা দুর্গম উচ্চতায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্থিরতাও অত্যন্ত জরুরি। বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, শারীরিক সক্ষমতা এবং অভিযানের ধকল সামলাতে যোগব্যায়াম এখন তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

প্যাংগং সো-এর তীরে যোগাসন:
প্রায় ১৪,২৭০ ফুট উচ্চতায় এই যোগব্যায়াম পর্বের আয়োজন ছিল সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। আইটিবিপি-র ৪৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা প্যাংগং সো-এর পাড়ে অত্যন্ত নিপুণভাবে বিভিন্ন আসন সম্পন্ন করেন। তাঁদের এই উদ্যোগ সীমান্তে যেমন এক নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়েছে, তেমনই ভারতের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাস্থ্যের চর্চাকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতিটি স্তরে তুলে ধরার বার্তা দিয়েছে।

দীর্ঘ দিনের অভ্যাস:
আইটিবিপি জওয়ানদের কাছে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরেই তাঁরা আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করে আসছেন। এর আগে ১৮,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় হিমবাহ অঞ্চল এবং সামনের সারির চৌকিতেও জওয়ানদের যোগব্যায়াম করতে দেখা গেছে। দুর্গম অঞ্চলে মোতায়েন থাকা এই সেনাকর্মীদের কাছে যোগব্যায়াম কেবল একটি শরীরচর্চা নয়, বরং সীমান্তবর্তী কঠিন দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘মানসিক শক্তি’ অর্জনের মাধ্যম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *