নেতানিয়াহু কি ট্রাম্পের শান্তির পথে বড় বাধা? ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ এক গভীর সংকটের মুখে। একদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হলেও, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থানে তা পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শান্তিচুক্তি বনাম নেতানিয়াহুর জেদ: ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির প্রধান শর্ত ছিল লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি। কিন্তু নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার সিদ্ধান্তে অটল। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবাননে বহু প্রাণহানি ঘটছে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, দুই পক্ষই ১৫,৪০০ বারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুকে সরাতে চাইছেন? ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন বুঝতে পেরেছে নেতানিয়াহুকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব। খবর চাউর হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন নেতানিয়াহুর বিরোধী নেতা নাফতালি বেনেটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল হিসেবেই একে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের নতুন ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’: এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া এই বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটিকে বলা হচ্ছে ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’।
-
মূল্য ও বৈশিষ্ট্য: বিমানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকা। এটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করতে আমেরিকা আরও ৩,৩০০ কোটি টাকা খরচ করেছে।
-
গতি ও প্রযুক্তি: এটি প্রতি ঘণ্টায় ১০৬০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম এবং একবার জ্বালানি ভরলে ১৪,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।
-
বিলাসিতা: বিমানটিতে ১০০ জন যাত্রীর বসার জায়গা, মাস্টার বেডরুম, ডাইনিং এরিয়া, প্রাইভেট সুট এবং একটি বিশাল কনফারেন্স রুম রয়েছে।
আগামী মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প এই নতুন বিমানটিতে করেই যাত্রা করবেন বলে জানা গেছে। একিদিকে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে বিলাসবহুল এয়ারফোর্স ওয়ান—সব মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন যাত্রা ভূ-রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নিয়ে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।