সকালে ঘুম থেকে উঠলেই গাঁটে প্রচণ্ড আড়ষ্টতা? অবহেলা করছেন না তো? জানুন কী বলছেন বিশেষজ্ঞ

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই ঘুম থেকে ওঠার পর হাত-পায়ের জয়েন্ট বা গাঁটে তীব্র আড়ষ্টতা বা জড়তা অনুভূত হয়। বিছানা থেকে উঠে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে অনেকের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লেগে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘মর্নিং স্টিফনেস’। কিন্তু এই সমস্যা কি কেবল বয়সজনিত, নাকি এটি কোনো গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ?

কেন হয় এই আড়ষ্টতা? বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা: বিএলকে ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট প্রোগ্রামের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. ঈশ্বর বোহরা জানান, এর পেছনে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:

  • সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের অভাব: আমাদের অস্থিসন্ধিগুলো মসৃণ রাখতে ‘সাইনোভিয়াল ফ্লুইড’ নামক এক প্রকার ঘন তরল কাজ করে। রাতে দীর্ঘক্ষণ শরীর স্থির থাকায় তরুণাস্থি এই তরল শোষণ করে নেয়, যার ফলে সকালে গাঁট শক্ত হয়ে যায়। নড়াচড়া শুরু করলে এটি আবার স্বাভাবিক হয়।

  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস: ভারতে অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বিশাল। এই অবস্থায় তরুণাস্থি ক্ষয়ে যায় এবং আড়ষ্টতা দেখা দেয়, যা সাধারণত ৩০ মিনিটের মধ্যে কমে যায়।

  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: এটি একটি অটোইমিউন রোগ। যদি আড়ষ্টতা এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হয়, তবে তা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।

  • অন্যান্য কারণ: ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো অথবা শরীরে ভিটামিন ডি৩ ও ক্যালসিয়ামের অভাবও পেশী এবং অস্থিসন্ধিকে শক্ত করে তোলে।

স্বস্তি পাওয়ার উপায়: যদি এই সমস্যা আপনার প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়, তবে দেরি না করে একজন রিউম্যাটোলজিস্ট বা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্ত পরীক্ষা (যেমন- আরএ ফ্যাক্টর, সিআরপি) ও এক্স-রে করে সঠিক রোগ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

তাৎক্ষণিক আরামের জন্য কী করবেন? ১. গরম সেঁক: সকালে ঘুম থেকে উঠেই আক্রান্ত গাঁটে গরম সেঁক দিন, এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। ২. স্ট্রেচিং: বিছানা ছাড়ার আগে শুয়ে শুয়ে হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করুন। ৩. খাদ্যভ্যাস: খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রদাহরোধী উপাদান যেমন কাঁচা হলুদ অন্তর্ভুক্ত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *