ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালী! ইরান-মার্কিন চুক্তিতে ফাটল, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

আবারও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করল ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) নেভির পক্ষ থেকে সমস্ত জাহাজকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, এই জলপথের কাছাকাছি আসা যেকোনো জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সম্প্রতি সম্পাদিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর শর্ত মানছে না। তেহরানের দাবি, ইজরায়েলকে লেবাননে আক্রমণ বন্ধ রাখতে হবে এবং এই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ: IRGC এই পদক্ষেপকে তাদের প্রতিক্রিয়ার ‘প্রথম ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইজরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে ইরান আরও কঠোর ও সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। এতে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক আক্রমণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশেষজ্ঞ মহল।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা: হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং সংবেদনশীল জ্বালানি পথ। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই যায়। ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশই এই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। টানা কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। প্রণালীটি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ফের বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, মাত্র কয়েক দিন আগেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেই শান্তির মেয়াদ খুব বেশি দীর্ঘ হলো না। লেবানন সীমান্তে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ফের পুরো পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলা হলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।