‘জওহরলাল নেহেরু থেকে শাহরুখ খান, সবাই চীনের দালাল’

চলতি মাসের শুরুর দিকে অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) কাছে চীনের সৈন্যদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় ভারতীয় সেনারা। ভারতের সাথে সীমান্ত স্থিতিশীল রয়েছে, সংঘর্ষের পর চীন এ কথা জানালেও বিষয়টি নিয়ে ব্যস্ততা কাটেনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের।

বিষয়টি নিয়ে সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, চীনা সেনাদের মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বহু বিজ্ঞাপিত ৫৬ ইঞ্চির ছাতির বড়াই চুপসে গেছে।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) আবার ভিন্ন মাত্রার অভিযোগ তুলেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভারতে চীনের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাড়ানোর জন্য দায়ী রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক-ছাত্র এবং চীনা অনুদান পাওয়া কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর দায়ী শাহরুখ খান, আমির খান, কবির খানের মতো অভিনেতা, যারা চীন সরকারের আমন্ত্রণে বেইজিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে হাজির ছিলেন। জওহরলাল নেহেরুও চীনের প্রতি দুর্বল ছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

আরএসএসের মুখপত্রের সাম্প্রতিক কয়েকটি সংখ্যাতেই এ ধরনের বক্তব্যের ধারা দেখা যাচ্ছে। বিজেপি সরকার তাওয়াংয়ের ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়ার পরে সর্বশেষ সংখ্যায় এই প্রচেষ্টায় বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে।

এবারে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন ঘটনায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বয়ান ভারতে প্রচার করার জন্য বেইজিং টাকা ছড়ায়, চীনের বিষয়ে জওহরলাল নেহরু অকারণ নরম মনোভাব নিয়ে চলতেন। এছাড়া বেসরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে চীনা মতবাদ ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

একইসঙ্গে অর্থের বিনিময়ে মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র সাম্রাজ্যেও চীন প্রভাব বিস্তার করেছে অভিযোগ করে শাহরুখ খান, আমির খান, কবির খানের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘু অভিনেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। চীন তাদের বশ করে ফেলে নিজেদের ধারায় চালিত করছে বলেও অভিযোগ মুখপত্রের লেখকের।

লেখকের অভিমত, কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই শি জিনপিং সরকার ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের কৌশল নিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *