‘এই মেয়ে কি রাজ্যের লাডলি নয়?’ আনিকার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের দিকে তোপ দাগলেন হাই কোর্ট!

সাড়ে তিন বছরের একরত্তি আনিকা শর্মা। এই বয়সেই তার লড়াই এক মারণব্যাধির বিরুদ্ধে। ‘স্পাইনাল মাসকিউলার অ্যাট্রোফি’ (SMA)-এর মতো বিরল ও গুরুতর রোগে আক্রান্ত এই শিশুটির জীবন এখন এক অনিশ্চিত বাঁকের মুখে। এই জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন একটি বিশেষ ইনজেকশন, যার দাম আকাশছোঁয়া—প্রায় ৯ কোটি টাকা। নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে এত বিশাল অঙ্কের খরচ জোগানো কার্যত অসম্ভব। তবুও লড়াই থামায়নি পরিবার। গত আট মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম আর ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যপূরণে এখনও প্রয়োজন আরও ১ থেকে ১.৫ কোটি টাকা।
সম্প্রতি এই মর্মস্পর্শী বিষয়টি পৌঁছেছে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে। সেখানে শুনানির সময় সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। আদালতের প্রশ্ন, “সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে। তবে এই শিশুটি কি রাজ্যের ‘লাডলি’ নয়? কেন সরকার তার চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করবে না?”
আইনজীবী চঞ্চল গুপ্তা ও লখন শর্মার মাধ্যমে দায়ের করা এই মামলায় উঠে এসেছে আনিকার জীবনের করুণ চিত্র। দিল্লি এইমসে (AIIMS) তার চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু শর্ত একটাই—ইনজেকশন দেওয়ার আগে শিশুটির ওজন হতে হবে ১৩ কেজির নিচে। সেই লক্ষ্যেই গত কয়েক দিন ধরে আনিকাকে কেবলমাত্র তরল খাবার খাইয়ে রাখা হয়েছে, যাতে চিকিৎসার প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না আসে।
আদালত এই মামলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য উভয় সরকারকে দ্রুত পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আনিকার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। হাই কোর্ট এইমসের প্রতিনিধিদেরও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। যদিও শুনানিতে এইমসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, তবু আদালতের স্পষ্ট বার্তা—প্রশাসনের উচিত সব ধরনের মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা।
অনেকেই দাবি তুলেছেন, সরকারের ‘লাডলি বহনা’ প্রকল্পের মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়, তবে একটি শিশুর প্রাণ বাঁচাতে কেন বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে না? হাই কোর্টের এই কঠোর অবস্থানের পর এখন নজর আগামী সপ্তাহের শুনানির দিকে। প্রশাসন কি শেষ পর্যন্ত আনিকার জীবন বাঁচাতে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে? কোটি টাকার লড়াইয়ে জিতে কি সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে এই ছোট্ট আনিকা? এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।