সংকট কাটল হরমুজে! ভারতে পৌঁছাল বিশাল এলএনজি কার্গো, স্বস্তির নিঃশ্বাস শিল্পমহলে

দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন—হরমুজ প্রণালীতে ফিরেছে স্বাভাবিক ছন্দ। আর এই পরিস্থিতির প্রথম বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়ল ভারতের জ্বালানি সরবরাহে। কাতার থেকে ৬২,৩৭০ মেট্রিক টন এলএনজি (LNG) নিয়ে ‘দিশা’ নামের একটি বিশাল ট্যাঙ্কার শুক্রবার সফলভাবে গুজরাতের দাহেজ বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ভড়ুচ বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (SCI)-এর অধীনে পরিচালিত ‘দিশা’ ট্যাঙ্কারটি পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেডের জন্য জ্বালানি নিয়ে এসেছিল। বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, ঠিক সেই সময়েই হরমুজ প্রণালীর মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে এই জাহাজের সফল আগমন ভারতের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন এই খবরটি এত গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালী হলো গ্লোবাল এনার্জি ট্রেডের প্রধান ধমনী। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনার জেরে জাহাজ চলাচল কার্যত থমকে গিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে এক ঐতিহাসিক জ্বালানি সংকটের জন্ম দিয়েছিল। ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১০ দিন পর বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের জাহাজ এই রুটে পাঠানোর সাহস করছে। গত ১৬ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে প্রায় ৪০-৫০টি জাহাজ এই প্রণালী পার হয়েছে, যা একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যদিও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ৮০-১০০টি জাহাজ এখান দিয়ে যাতায়াত করে, তবুও মাত্র তিন দিনে এই জাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়া এবং জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিল্পায়ন ও গৃহস্থালির জ্বালানি চাহিদাও এখন অনেক বেশি সুরক্ষিত। যদিও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই নতুন মোড় ভারতীয় অর্থনীতিকে স্বস্তি দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আতঙ্ক অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।