‘ঐক্যবদ্ধ’ ছবি পোস্ট EC-র-দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই বৈঠকে ৩ নির্বাচন কমিশনার

সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া একাধিক প্রতিবেদন ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এমনকি SIR (Special Summary Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে দূরত্বের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর বিরোধী দলগুলি সোচ্চার হয় এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই যাবতীয় জল্পনা ও জল্পনা-কল্পনাকে জল ঢেলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে মাঝে রেখে অপর দুই নির্বাচন কমিশনারকে হাসিমুখে এক টেবিলে বসে বৈঠক করতে দেখা গেছে। কমিশন এই ‘ঐক্যবদ্ধ’ বার্তার সঙ্গেই জনস্বার্থে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় একগুচ্ছ বড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে।
সাধারণ ভোটারের ভোগান্তি কমাতে বড় পদক্ষেপ: ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে কোনো তথ্যগত অমিল (Logical Discrepancy) বা ভোটারকে ‘unmapped’ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিস দেওয়া হলে, তাঁদের আর শুনানির জন্য বারবার সরকারি দপ্তরে ছুটতে হবে না। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে এবার সরাসরি ভোটারের বাড়িতে যাবেন বিএলও (Booth Level Officer)।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
-
বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ: বিএলও-রা সাধারণ মানুষের বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করবেন এবং তা সরাসরি ‘ECINet’ পোর্টালে আপলোড করবেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ইআরও (Electoral Registration Officer) সেই নথি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
-
বিশেষ ছাড় বয়স্ক ও অসুস্থদের: প্রবীণ, শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তিদের শুনানির জন্য ইআরও বা এইআরও (AERO) অফিসে ডাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অত্যন্ত জরুরি কোনো পরিস্থিতি না থাকলে তাঁদের স্বশরীরে হাজির হতে হবে না।
-
অনলাইন শুনানি ও বিকল্প প্রতিনিধি: প্রয়োজনে অনলাইনের মাধ্যমে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া শুনানির দিন ভোটার নিজে উপস্থিত হতে না পারলে পরিবারের যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে পারবেন।
শ্রমিক ও গৃহহীনদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প: SIR প্রক্রিয়ায় যেন সমাজের কোনো সুবিধা বঞ্চিত বা পিছিয়ে পড়া অংশ বাদ না পড়েন, সে বিষয়েও জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাইট শেল্টারে থাকা মানুষ, দিনমজুর, গরিব ও গৃহহীনদের সুবিধার্থে বিশেষ শিবির আয়োজন করে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে কমিশন।
দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে বাড়ল সময়সীমা: কাজের সুবিধার্থে ও সাধারণ মানুষের আর্জি মেনে দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রে ক্লেইম ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। দিল্লির জন্য আপত্তি জানানোর শেষ দিন ৩০ অক্টোবর ২০২৬ এবং তা নিষ্পত্তির সময়সীমা ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে ক্লেইম জানানোর সময় বাড়িয়ে ১২ অক্টোবর ২০২৬ এবং নোটিস ও দাবি নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ নভেম্বর ২০২৬ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে অভ্যন্তরীণ ফাটলের দাবি খারিজ করা এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে SIR প্রক্রিয়া সহজ করা—সব মিলিয়ে এই জোড়া পদক্ষেপে জলঘোলা কমানোর পথেই হাঁটল নির্বাচন কমিশন।