পর্দার আড়ালে আসল মাস্টারমাইন্ড! আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তির নেপথ্যে কে এই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের শান্তি চুক্তিতে গত কিছুদিন ধরে কাতার ও পাকিস্তানের নাম উঠে আসছিল। কিন্তু খোদ ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক চুক্তির নেপথ্যে মূল কারিগর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং রাজপরিবারের সদস্য শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদের মালিক এই নাহিয়ানই পর্দার আড়ালে থেকে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই আরব আমিরাত যুদ্ধ থেকে সরে এসে শান্তি স্থাপনের পথ বেছে নেয়, যা আমেরিকাকেও মেনে নিতে বাধ্য হতে হয়।
ব্লুমবার্গের মতে, নাহিয়ানের এই কূটনীতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছে। ইজরায়েলকে একঘরে করে এই শান্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কীভাবে সাফল্য পেলেন নাহিয়ান?
১. প্রাথমিক বাধা ও ব্যর্থতা: এপ্রিল মাসে যখন পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল, তখন ডিলটি ব্যর্থ হয়। সেই সময় আমিরাত যুদ্ধের পক্ষ নিয়েছিল। যার ফলে তৎকালীন মার্কিন আলোচনা দলের প্রধান জেডি ভেন্সকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল।
২. সরাসরি যোগাযোগ: দায়িত্ব পাওয়ার পর নাহিয়ান সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন। রয়টার্সের তথ্যমতে, আমিরাত ইরানকে তাদের জব্দ করা ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত দেয়। বিনিময়ে ইরান আমিরাতের ওপর আর কোনো সামরিক হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
৩. ট্রাম্পের ওপর চাপ: ইরান ও আমিরাতের মধ্যকার এই নতুন সখ্যতা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একতাবদ্ধ অবস্থান তৈরি করে। এই সম্মিলিত চাপেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে বাধ্য হন। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, জ্বালানি সংকটের কারণে তাঁর হাতে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
৪. ইজরায়েলের একঘরে হওয়া: আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আমিরাত এবার ইজরায়েলকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফাঁস হওয়া এক বিতর্কিত রিপোর্ট ঘিরে আমিরাত অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিল, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যুদ্ধের সময় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আমিরাত সফরে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই আমিরাত ইজরায়েল থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে ইরান-কেন্দ্রীক কূটনীতিতে মনোযোগ দেয়।
বর্তমানে আমেরিকা ও ইরান একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে এগোচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের সেন্ট্রিফিউজ ব্যবস্থা ধ্বংস করা। তবে শান্তি আলোচনার এই নতুন মোড় ইজরায়েলের জন্য বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।