চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সমাপ্তি, আসলে কি সত্যিই হেরেছে ইরান? বড় প্রশ্ন তুললেন বিশেষজ্ঞরা

প্রায় চার মাস ধরে চলা তীব্র আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের অবশেষে অবসান ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ সমাপ্তির চুক্তিকে তার প্রশাসনিক সাফল্যের মুকুটে এক নতুন পালক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষক এবং সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই দাবি নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন ম্যাগাজিন ‘নিউজউইক’ বিশ্বের ১০ জন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছে, যার নির্যাস অত্যন্ত চমকপ্রদ।
সামরিক দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল নিঃসন্দেহে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই যুদ্ধে ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বিমানবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পারমাণবিক প্রকল্প। অসংখ্য সামরিক নেতা এবং শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, যা অর্জনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী সামরিক অবকাঠামো হারালেও রাজনৈতিকভাবে তারা আরও সুসংহত হয়েছে। লন্ডনস্থিত রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বুরকু ওজচেলিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের ফলে ইরানের রক্ষণশীল এবং কট্টরপন্থী শক্তিগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি চীন এবং রাশিয়ার কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছেছে যে, কেবল সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়।
ইউসিএল-এর অধ্যাপক মেলানি গার্সনের দাবি, ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে দাবি করতে পারে যে, তারা আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের হামলা সহ্য করেও টিকে আছে। চুক্তির ফলে তারা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি, আর্থিক তহবিল এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পদ ফেরতের মতো বড় ধরনের ছাড় আদায় করে নিয়েছে, যা তাদের কৌশলী জয়েরই প্রমাণ।
অবশ্য সবাই যে একমত, তা নয়। প্রাক্তন পেন্টাগন আধিকারিক জিম টাউনসেন্ড এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মাইকেল ও’হ্যানলোনের মতো বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অমিমাংসিত যুদ্ধ। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজুড়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, আমেরিকা কিছু ক্ষেত্রে সামরিক সাফল্য পেলেও, ইরানের মিজাইল এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারেনি।