ভান্ডারা-গোন্দিয়া সীমান্তের ‘মরণফাঁদ’ রাস্তা! জরাজীর্ণ সড়কে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

ভান্ডারা ও গোন্দিয়া জেলার সীমান্ত সংলগ্ন গোন্দুমরির প্রধান সংযোগকারী সড়কটি এখন কার্যত একটি ‘মরণফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, রোগী ও জরুরি পরিষেবাবাহী যানবাহন চলাচল করে। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় সড়কটির অবস্থা এখন শোচনীয়। রাস্তার দুই পাশে যত্রতত্র পড়ে থাকা ইট, পাথর, কাঠ ও বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য নিত্যদিনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়নের কাজ মাঝপথেই থমকে রয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত, যা সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে গর্তগুলো চোখে না পড়ায় নিয়মিত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, গোন্দুমরি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও তারা এই সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

এই সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ গোন্দুমরি গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এই রাস্তার ধারেই অবস্থিত। ফলে অসুস্থ রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অ্যাম্বুলেন্সকে এই ভাঙাচোরা পথের ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। সড়কটি সৌন্দাদ-কোহমারা রুটের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকায় এখানে যানবাহনের চাপ সবসময় বেশি থাকে। নির্মাণের নামে ফেলে রাখা এই সামগ্রীগুলো রাস্তাটিকে এতটাই সংকীর্ণ করে তুলেছে যে, বড় গাড়ি পার হওয়ার সময় প্রায়শই যানজটের সৃষ্টি হয়।

সামান্য সময়ের ব্যবধানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। গরমকালে ধুলোবালি এবং বর্ষায় কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তারা সম্পূর্ণ নীরব। অবিলম্বে রাস্তা থেকে অবৈধ দখল ও নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে পথটিকে চলাচলের উপযোগী করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোন্দুমরির বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *