জি৭-এর মঞ্চে মোদী ঝড়, বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের ‘সুশাসন’ মডেল, মুগ্ধ ম্যাক্রোঁ!

ফ্রান্সের এভিয়ানে আয়োজিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলন আবারও সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতাদের সামনে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও আধিপত্য তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই মঞ্চ থেকে তিনি বিশ্ব শাসন ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জোরালো বার্তা দিয়েছেন, যা উপস্থিত রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে গভীর রেখাপাত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে সুশাসনের এক নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “সুশাসন কেবল সরকারি নথিপত্রে বা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রকৃত সুশাসন সেটাই, যা সমাজের শেষ প্রান্তের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি দেশ এবং প্রতিটি ব্যক্তির কাছে পৌঁছাবে।” এই বক্তব্য বিশ্ব শাসন ব্যবস্থায় ভারতের ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করেছে। অংশীদারিত্বমূলক টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ার যে ডাক প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা জি৭-এর মঞ্চে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছেন।
এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর উষ্ণ বন্ধুত্ব। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। অত্যন্ত আবেগঘনভাবে হিন্দিতে ম্যাক্রোঁ বলেন, “প্রিয় বন্ধু নরেন্দ্র, আপনাকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারত-ফ্রান্স বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক।” নিজের হিন্দি উচ্চারণ নিয়ে মৃদু হেসে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাক্যটি সঠিক ছিল। সেই সঙ্গে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরের তীব্র আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের অসামান্য অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চিত্র বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তিনি ভারতের বর্তমান শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত বর্তমানে মোবাইল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়া, গত কয়েক বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ ভারতের দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
স্লোভাকিয়ায় সর্বোচ্চ সম্মাননা লাভের পর জি৭-এর মতো মঞ্চে মোদীর এই উপস্থিতি ভারতের কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও ডিজিটাল অগ্রগতির মডেল নিয়ে ভারত যেভাবে এখন বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তা ভবিষ্যতে ভারতের কূটনৈতিক পথকে আরও মসৃণ করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল ভারতের অর্জনকেই তুলে ধরেনি, বরং বিশ্বনেতাদের চোখে ভারতকে একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।