নকল ঘিয়ের রমরমা কারবার! এফএসএসএআই-এর অভিযানে পর্দাফাঁস আন্তঃরাজ্য সিন্ডিকেটের

নামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ভেজাল ঘি কেনার প্রতারণা থেকে সাবধান! দিল্লি ও হরিয়ানাজুড়ে চলা এক বিশাল নকল ঘি প্রস্তুতকারী সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস করল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৬,৫০০ লিটারেরও বেশি সন্দেহজনক ভেজাল ঘি এবং তা তৈরির কাঁচামাল।

কীভাবে ফাঁস হলো এই চক্র? এফএসএসএআই-এর নজরে আসে যে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কোনো বৈধ লাইসেন্স নম্বর ছাড়াই ‘প্রিমিয়াম দেশি ঘি’ বা ‘গরুর ঘি’ বিক্রির রমরমা বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপনগুলোর কোনোটিতেই লেবেলিংয়ের যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এফএসএসএআই কর্মকর্তারা ‘ডামি কাস্টমার’ বা ক্রেতা সেজে ওই ঘি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেখা যায়, এই ঘিগুলোতে উদ্ভিজ্জ তেলসহ একাধিক ক্ষতিকর নন-ডেইরি উপাদান মেশানো হয়েছে।

অভিযানের নেপথ্যে: এফএসএসএআই-এর নর্দার্ন রিজিওনাল অফিসের (NRO) পরিচালক ও আইপিএস দেবেশ কুমার মহালার নেতৃত্বে এই বড় অভিযানটি পরিচালিত হয়। দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা কর্মকর্তারা একযোগে হানা দেন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল ঘিয়ে ব্যবহৃত উদ্ভিজ্জ তেল বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান দীর্ঘমেয়াদে হার্টের সমস্যা, লিভারের ক্ষতি এবং হজমের মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ীরা দামি দেশি ঘির নাম করে সস্তায় এই বিষ বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সাধারণ মানুষের জন্য টিপস:

  • লেবেল চেক করুন: ঘি কেনার আগে অবশ্যই তাতে এফএসএসএআই (FSSAI) লাইসেন্স নম্বর আছে কি না তা দেখে নিন।

  • সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন: সোশ্যাল মিডিয়ায় বা অপরিচিত লিঙ্কে প্রলোভন দেখে ঘি অর্ডার করবেন না।

  • মূল্য: বাজারের প্রচলিত দামের চেয়ে অস্বাভাবিক কম দামে নামি ব্র্যান্ডের ঘি পাওয়া গেলে তা ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এফএসএসএআই-এর এই অভিযান প্রমাণ করে যে, খাবারের নামে বিষাক্ত পণ্য থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *