নিট পরীক্ষা ঘিরে টেলিগ্রামের ওপর নিষেধাজ্ঞা: ১৫ কোটি ব্যবহারকারীর অধিকার না জনস্বার্থ—কী বললেন হাইকোর্ট?

আসন্ন NEET-UG ২০২৬ পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে টেলিগ্রামের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারাধীন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং প্ল্যাটফর্মটির অপব্যবহার রোধে সরকার যে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তা নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। শুনানির পর আদালত আপাতত রায় সংরক্ষিত রেখেছে।

কেন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা? কেন্দ্রীয় সরকার হলফনামার মাধ্যমে আদালতকে জানিয়েছে, টেলিগ্রাম বর্তমানে ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’-এ পরিণত হয়েছে। সরকার প্রধানত তিনটি বড় উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে:

  • প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতি: “NEET Mafia”-র মতো চ্যানেলের মাধ্যমে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর কাছে জাল প্রশ্নপত্র ও প্রতারণামূলক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

  • সন্ত্রাস ও অপরাধ: প্ল্যাটফর্মটি সাইবার অপরাধ, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

  • প্রযুক্তিগত অপব্যবহার: টেলিগ্রামের ‘এডিট’ ফিচার ও ক্লাউড-ভিত্তিক গোপনীয়তা অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণ জোগাড় করা কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত কঠিন করে তুলছে।

আদালতে কেন্দ্র বনাম টেলিগ্রাম: শুনানির সময় বিচারপতি তেজস কারিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “একটি পরীক্ষার জন্য কি ১৫ কোটি সাধারণ ব্যবহারকারীর কণ্ঠরোধ করা যায়? কেন শুধু ক্ষতিকর তথ্য ব্লক করা হচ্ছে না?” এর উত্তরে কেন্দ্রীয় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ও অ্যাটর্নি জেনারেল ভেঙ্কটরামানি যুক্তি দেন যে, জনস্বার্থ ও পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষায় এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তাদের মতে, যখন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে, তখন এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

টেলিগ্রামের অবস্থান: অন্যদিকে, টেলিগ্রামের আইনজীবীদের দাবি, পুরো প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার চেয়ে নির্দিষ্ট চ্যানেল বা তথ্য ব্লক করা বেশি যুক্তিযুক্ত। কোম্পানিটি দাবি করেছে যে, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ম্যানুয়াল মডারেশনের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৯০০টিরও বেশি অবৈধ লিঙ্ক সরিয়ে ফেলেছে।

ভবিষ্যৎ কী? ২১শে জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া NEET-UG পুনঃপরীক্ষার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্র। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার আওতায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভারতের সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের মধ্যেকার এক বড় আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। আদালত এখন এই ভারসাম্য বজায় রেখে কী রায় দেয়, তার দিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *