নাইকায় বিনিয়োগকারীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস! রেকর্ড উচ্চতায় স্টক, কী বলছে নোমুরা ও জেফরিজ?

প্রবৃদ্ধি কৌশল এবং উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা সামনে আসতেই শেয়ার বাজারে উড়ছে এফএসএন ই-কমার্স ভেঞ্চারস লিমিটেড বা নাইকা। টানা তিন দিনের ট্রেডিং সেশনে সংস্থাটির শেয়ারের দাম অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্টকটিকে নিয়ে গেছে রেকর্ড উচ্চতায়। ইনভেস্টর ডে-তে নাইকার ২০৩০ সালের যে রোডম্যাপ উপস্থাপিত হয়েছে, তা বিনিয়োগকারী এবং বাজার বিশ্লেষকদের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে।

লক্ষ্যমাত্রা ৩৫০ টাকা! কী বলছে নোমুরা ও জেফরিজ? নাইকার এই অভাবনীয় সাফল্যের পর গ্লোবাল ব্রোকারেজ সংস্থাগুলো তাদের ইতিবাচক অবস্থান বজায় রেখেছে:

  • নোমুরা (Nomura): সংস্থাটি নাইকার ওপর তাদের ‘বাই’ (Buy) রেটিং বজায় রেখেছে এবং শেয়ারটির জন্য ৩১৭ টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাদের মতে, আগামী কয়েক বছরে কোম্পানিটির বিক্রয় এবং মুনাফা উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে।

  • জেফরিজ (Jefferies): তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে নাইকার জন্য ৩৫০ টাকার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। জেফরিজের মতে, ৩০ অর্থবর্ষের জন্য নাইকার লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য।

২০৩০-এর রোডম্যাপ: নাইকার মূল পরিকল্পনা কোম্পানিটি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রিমিয়াম সৌন্দর্য, সুস্থতা (Wellness) এবং লাইফস্টাইল পণ্যের চাহিদাকে পুঁজি করতে চায়। তাদের প্রধান লক্ষ্যগুলি হলো:

  • রাজস্ব ও জিএমভি: ৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজস্ব বর্তমান স্তরের ২.৫ থেকে ৩ গুণ বৃদ্ধি করা এবং গ্রস মার্চেন্ডাইজ ভ্যালু (GMV) আড়াই থেকে তিন গুণ বাড়িয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি করা।

  • মুনাফার হার: ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে ইবিআইটিডিএ (EBITDA) মার্জিন অর্জন করা এবং ইবিআইটিডিএ চার থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করা।

  • মূলধনের রিটার্ন: মূলধনের ওপর রিটার্ন বা আরওআইসি (ROIC) ৪০ শতাংশের বেশি করার পরিকল্পনা।

সৌন্দর্য ও ফ্যাশনে নতুন চমক জেফরিস মনে করছে, নাইকার অমনিচ্যানেল কৌশল, বিজ্ঞাপন থেকে আয় এবং দ্রুত ডেলিভারি পরিষেবা তাদের সৌন্দর্য ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, ফ্যাশন বিভাগে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এবং নতুন ব্র্যান্ডের প্রসারের মাধ্যমে উচ্চ একক-সংখ্যার মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে তাদের। অফলাইন এবং অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই নিজস্ব ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কন্টেন্ট ইকোসিস্টেমের সঠিক ব্যবহার নাইকাকে আগামী দিনে ভারতের ই-কমার্স সেক্টরে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত করতে পারে।

দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তৈরি এবং এটিকে বিনিয়োগ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার আর্থিক উপদেষ্টার সাথে পরামর্শ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *