পুরী থেকে গ্রেফতারি, এবার আদালতে সুশান্ত ঘোষ! তোলাবাজির মামলায় কোন পথে তদন্ত?

তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে আলিপুর আদালতে পেশ করল কলকাতা পুলিশ। বুধবার ওড়িশার পুরী থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কীভাবে ধরা পড়লেন সুশান্ত? পুলিশ সূত্রে খবর, আনন্দপুর থানায় এক হকারের তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই সুশান্ত ঘোষ গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের নজর এড়াতে তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছিলেন এবং নিজের অবস্থান ক্রমাগত পরিবর্তন করছিলেন। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারকে মুম্বইতে সরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, পুরীতে আত্মগোপন করে থাকলেও, ওড়িশা থেকে ভুবনেশ্বর হয়ে আরও দূরে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আদালতে পুলিশের দাবি: বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে তদন্তকারীরা সুশান্ত ঘোষকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, তোলাবাজির এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র বা আর্থিক দুর্নীতির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে জেরা করা অত্যন্ত জরুরি। হকারের কাছ থেকে বেআইনি অর্থ দাবি করার নেপথ্যে আরও কারা জড়িত, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
রাজনৈতিক চাঞ্চল্য: কলকাতা পুরনিগমের এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই কাউন্সিলরের গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আদালত এখন তাঁকে পুলিশের হেফাজতে পাঠায় কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক