কর্ণাটকে বড় জয় কংগ্রেসের! বিধান পরিষদ নির্বাচনে ধরাশায়ী জেডিএস, জেনে নিন ফলাফলের খুঁটিনাটি

কর্ণাটক বিধান পরিষদের সাতটি শূন্য আসনের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ দাপট দেখাল শাসক দল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার ভোট গণনা শেষে জানা গেছে, সাতটি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জয়ী হয়েছে কংগ্রেস। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই ফলাফলের ফলে ৭৫ সদস্যের উচ্চকক্ষে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯-এ, যা তাদের অবস্থানকে রাজ্য রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী করল।

ফলাফলের চুম্বক অংশ:

  • কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী: বিকে হরিপ্রসাদ, থিপ্পানাপ্পা কামকানুর, পিভি মোহন, শিবান্না বিএস (মালাভল্লি) এবং বিনয় কার্তিক প্রকাশ।

  • বিজেপির জয়ী প্রার্থী: লিঙ্গরাজ পাতিল এবং রঘু আর।

  • জেডিএস-এর বিপর্যয়: এই নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে জনতা দল (সেকুলার)। তাদের প্রার্থী গোবিন্দরাজু নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, যা দলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কেন এই জয় গুরুত্বপূর্ণ? মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। উচ্চকক্ষে কংগ্রেসের এই সংখ্যাধিক্য সরকারি বিল পাস ও প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণে দলটিকে আরও স্বচ্ছন্দে কাজ করতে সাহায্য করবে। নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপি ও জেডিএস জোটের পক্ষ থেকে জয়ের দাবি করা হলেও, শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের কৌশলী রাজনীতি ও বিধায়কদের সমর্থন তাদের জয় নিশ্চিত করে।

জেডিএস-এর ব্যর্থতা ও ক্রস-ভোটের জল্পনা: নির্বাচনের সমীকরণ অনুযায়ী, প্রতিটি জয়ের জন্য প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল ২৮টি প্রথম পছন্দের ভোট। জেডিএস প্রার্থী গোবিন্দরাজু প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, জেডিএস-এর ১৮ জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রার্থীর মাত্র ১৪টি ভোট পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, দলের ভেতরেই বড় ধরনের মতবিরোধ বা ক্রস-ভোটিং হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির উদ্বৃত্ত ভোটও জেডিএস প্রার্থীর ঝুলিতে না আসায় পরাজয় নিশ্চিত হয় জোট প্রার্থীর।

আগামী ৩০ জুন বর্তমান এমএলসি-দের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষিতে এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই জয় কেবল কর্ণাটকের উচ্চকক্ষেই নয়, বরং রাজ্য রাজনীতির ময়দানেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণকে আরও সুদৃঢ় করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *