বন রক্ষায় কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের: ঝাড়খণ্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁচাতে বিশেষ গুরুত্ব!

সারা দেশে বনভূমি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করল সুপ্রিম কোর্ট। ঝাড়খণ্ড রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (JSPCB) দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, দেশের হাতেগোনা কয়েকটি রাজ্যের মধ্যেই ঝাড়খণ্ড অন্যতম, যেখানে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র এখনও অক্ষত এবং তা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল মূলত, পাথর উত্তোলন এবং স্টোন ক্রাশার স্থাপনের জন্য অনুমোদিত দূরত্ব কমানোর বিষয়ে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের একটি পুরোনো নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল জেএসপিসিবি। এপ্রিল মাসে হাইকোর্ট বন বা বনাঞ্চলের সীমানা থেকে পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের বেঞ্চ ঝাড়খণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করে বলেন, “খুব কম রাজ্যই তাদের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে সত্যিকার অর্থে রক্ষা করতে পেরেছে। ঝাড়খণ্ড তাদের মধ্যে অন্যতম, যাকে রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
বন ও পরিবেশ রক্ষায় কেন এই কড়াকড়ি, তা বোঝাতে নিচের চিত্রটি দেখুন:
কেন ‘প্রধান শিক্ষক’ প্রসঙ্গ? শুনানির এক পর্যায়ে জেএসপিসিবি-র আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত কিছু মন্তব্য করে, যার প্রেক্ষিতে “আমরা প্রধান শিক্ষক নই” কথাটি উঠে আসে। মূলত, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার বার্তা দিতেই আদালত এই ধরনের পর্যবেক্ষণ দেয় বলে মনে করা হচ্ছে। সংস্থাগুলোর উচিত আইনি বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়েও পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঝাড়খণ্ডের মতো খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলোতে পরিবেশ ও শিল্পায়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আদালতের এই অবস্থানকে পরিবেশবিদরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।