‘আমি তো আর সাধু নই!’ বাবা-মায়ের ডিভোর্স ও পরকীয়া চর্চায় মুখ খুললেন গোবিন্দা-কন্যা টিনা

নব্বইয়ের দশকের ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ গোবিন্দা এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরেই পেজ থ্রির চর্চার বিষয়। মাঝে কয়েক দশক পার হলেও, ২০২৬ সালেও এসেও তাঁদের দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার গুঞ্জন যেন পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন তাঁদের কন্যা টিনা আহুজা।

টিনার বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া:
‘দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিনা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি মা-বাবার সম্পর্ক নিয়ে নানারকম নোংরা রটনা দেখে বড় হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি তো আর সাধু-সন্ত নই যে এসব গায়ে লাগবে না। যখন দেখি বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই এমন খবর দিনের পর দিন অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, তখন মানসিকভাবে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে গায়ের চামড়া মোটা করতেই হয়।” পরিবারের অন্দরের সত্যিটা জানা থাকায় তিনি এসব ভুয়ো খবরকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন।

‘কোমল’ ও রিভলভার কাণ্ড:
গোবিন্দা ও সুনীতার সম্পর্কের শীতলতা নতুন করে আলোচনায় আসে সুনীতার একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের জেরে, যেখানে তিনি ‘কোমল’ নামের এক রহস্যময়ী নারীর নাম উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও গোবিন্দা সবটাই অস্বীকার করেছেন। এরপর সুনীতার সম্প্রতি একটি কমেডি শো-র মঞ্চে দেওয়া মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। গত বছর গোবিন্দার পায়ে গুলি লাগার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সুনীতা খোঁচা দিয়ে বলেন, “যে স্বামী স্ত্রীকে সম্মান করে সে-ই আসল হিরো। নজর যখন অন্য দিকে চলে যায়, তখন সে নিজের হাঁটুতেই গুলি মেরে বসে!”

ক্রুষ্ণা-কাশ্মীরের সঙ্গে সম্পর্কের ছায়া:
এই মন্তব্যের পর থেকেই নেটপাড়ায় গুঞ্জন তুঙ্গে। গোবিন্দ ও সুনীতার হাসিখুশি দাম্পত্যের আড়ালে কি সত্যিই অভিমানের মেঘ ঘনীভূত? নাকি কেবলই মজার ছলে করা মন্তব্য? নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে সুনীতা আসলে সম্পর্কের গভীর কোনো ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই বিতর্ক পরিবারটিকে যে মানসিকভাবে বিদ্ধ করে, তা টিনার আক্ষেপ থেকেই পরিষ্কার। তারকা দম্পতির ডিভোর্সের গুঞ্জন এবং পরকীয়া নিয়ে সরগরম বলিউড অন্দরমহল এখন অপেক্ষা করছে এই বিতর্কিত অধ্যায় কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *