‘পিতলের শহর’ মোরাদাবাদে খুশির হাওয়া! হরমুজ প্রণালী খুলতেই কাটল ২৫০ কোটির জট

তিন মাসের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ফের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা এখন কাটতে শুরু করেছে। এই নৌপথ পুনরায় খুলে যাওয়ায় মোরাদাবাদের বিখ্যাত পিতল শিল্পের রপ্তানিকারকদের মুখে ফের হাসি ফুটেছে।
২৫০ কোটির পণ্য ছিল আটকে:
গত তিন মাস ধরে সমুদ্রপথ বন্ধ থাকায় মোরাদাবাদের বিভিন্ন কারখানায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মূল্যের তৈরি হস্তশিল্প আটকে ছিল। রপ্তানিকারকদের উদ্বেগের শেষ ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক চুক্তির জেরে হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যের জন্য খুলে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে। এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়া যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। বিদেশী ক্রেতারাও পুরনো অর্ডারগুলো নিশ্চিত করতে রপ্তানিকারকদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাপক চাহিদা:
মোরাদাবাদ হস্তশিল্প রপ্তানিকারক সমিতি (MHMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, মোরাদাবাদ থেকে প্রতি বছর প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকার হস্তশিল্প রপ্তানি করা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলোতে। প্রায় ১৫০ জন বড় রপ্তানিকারক এবং হাজার হাজার কারিগর সরাসরি এই বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ায় যে আর্থিক ধাক্কা লেগেছিল, এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
ব্যবসায়ীদের চোখে নতুন আশার আলো:
রপ্তানিকারক সালমান আতিক জানিয়েছেন, উপসাগরীয় ক্রেতাদের সাথে বাণিজ্যিক আলোচনা ফের শুরু হয়েছে। এতে কেবল রপ্তানিই বাড়বে না, বরং বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়বে। রপ্তানিকারক সতপাল ও গুলভেজ মালামের মতে, আটকে থাকা চালানের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে এবং প্যাকিংয়ের কাজও জোরকদমে চলছে।
সরকারের কাছে প্রত্যাশা:
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১৫ ডলার থেকে কমে ৭০ ডলারে নেমে আসায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এর পাশাপাশি, হস্তশিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল যেমন—প্যাকেজিং তুলা এবং বাটার পেপারের দাম কমানোর জন্য সরকার ও সরবরাহকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। এতে উৎপাদন খরচ কমলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তারা আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
উপসংহার:
হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়া মোরাদাবাদের এই শিল্প খাতের জন্য এক নতুন সঞ্জীবনী। স্থানীয় শিল্পীরা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাস উৎপাদন ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই জোয়ার আসবে, যা কয়েক হাজার শ্রমিকের রুটি-রুজির পথকে আরও সুগম করবে।