মিড ডে মিল কর্মীর ছেলে এখন IAS! অভাবকে জয় করে ৪১০ র‍্যাঙ্কে UPSC মাতালেন ডোঙ্গরে রেভাইয়াহ

‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’— এই প্রবাদটি আবারও সত্য প্রমাণ করলেন এক লড়াকু তরুণ। কোনো বিলাসবহুল জীবন নয়, ছিল না বড় কোচিং সেন্টারে পড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য। কিন্তু যা ছিল, তা হলো অদম্য আত্মবিশ্বাস এবং মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনির প্রতি পরম শ্রদ্ধা। সমস্ত অভাব-অনটনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০২২ সালের ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৪১০তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন ডোঙ্গরে রেভাইয়াহ।

ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে সিভিল সার্ভিস:
রেভাইয়াহ ছাত্র হিসেবে বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী। সিভিল সার্ভিসে আসার আগে তিনি নিজের কারিগরি মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন দেশের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘GATE’-এ সফল হয়ে। তাঁর সামনে সুযোগ ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে একটি সুরক্ষিত এবং মোটা মাইনের কর্পোরেট ক্যারিয়ার গড়ার। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল তাগিদ থেকে তিনি সেই পথ ছেড়ে ইউপিএসসির মতো কঠিন ও অনিশ্চিত যাত্রাকে বেছে নেন।

কোচিং ছাড়াই অসাধ্য সাধন:
বর্তমান যুগে যখন ইউপিএসসি ক্র্যাক করার জন্য শিক্ষার্থীরা দিল্লি বা বড় শহরের দামি কোচিং সেন্টারে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন, সেখানে রেভাইয়াহ প্রমাণ করে দিলেন যে সাফল্যের জন্য পকেটের জোর নয়, প্রয়োজন মনের জোর আর সঠিক রণকৌশল। আর্থিক অনটনের কারণে তিনি কোনো নামী কোচিংয়ের সাহায্য নিতে পারেননি। তবে নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রস্তুতির সময়কার নিয়মানুবর্তিতা এবং পরিশ্রম করার অভ্যাসকে তিনি ইউপিএসসির মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

সফল হওয়ার মন্ত্র:
রেভাইয়াহর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার এবং নিরবচ্ছিন্ন অধ্যবসায়। দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে কাটিয়েছেন, বিগত বছরগুলোর টপারদের ইন্টারভিউ ও রণকৌশল বিশ্লেষণ করেছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদন থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রেখে দিনের পর দিন কঠোর তপস্যা চালিয়ে গিয়েছেন।

রেভাইয়াহর এই জীবনযুদ্ধ প্রমাণ করে, প্রতিকূল পরিস্থিতি মানুষকে দমাতে পারে না যদি লক্ষ্যে অবিচল থাকার সাহস থাকে। তাঁর এই জয়গাথা শুধু এক আইএএস অফিসারের গল্প নয়, এটি হাজার হাজার শ্রমজীবী মা-বাবার স্বপ্নপূরণের এক অনুপ্রেরণামূলক দলিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *