শহর সাজাতে কি শিল্পীর স্মৃতি মোছা প্রয়োজন? জুবিন গর্গের মিউরাল মুছে বিতর্কের মুখে প্রশাসন

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে গুয়াহাটি শহরকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার তোড়জোড় চলছে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল কি এক মহান শিল্পীর দেওয়ালচিত্র? গুয়াহাটির গণেশগুড়ি ফ্লাইওভারের নিচে থাকা প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের একটি জনপ্রিয় দেওয়ালচিত্র মুছে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসমজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত:
ফ্লাইওভারের নিচে থাকা জুবিন গর্গের সেই মিউরালটিতে লেখা ছিল— ‘কমরেড নেভার ডাই’ (Comrade Never Die)। শিল্পীর মৃত্যুর পরও তাঁর এই দেওয়ালচিত্রটি শুধুমাত্র একটি ছবি ছিল না, তা হয়ে উঠেছিল অসমের মানুষের সাংস্কৃতিক আবেগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সৌন্দর্যায়নের কাজের দোহাই দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই দেওয়ালচিত্রটি মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন তুললেন গরিমা গর্গ:
এই ঘটনায় নিজের ক্ষোভ ও বেদনা গোপন রাখেননি জুবিনপত্নী গরিমা গর্গ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগী বার্তায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “জুবিনের ছবি কি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছিল? মানুষের মন থেকে কি এভাবেই জুবিনকে মুছে ফেলা সম্ভব?” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর মনে ক্ষোভ বা রাগ নেই, কিন্তু একজন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক আইকনের স্মৃতি এভাবে মুছে ফেলার প্রয়োজন কেন হল, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আবেগ ও বিতর্কের মেলবন্ধন:
জুবিন গর্গ অসমের মানুষের কাছে শুধু একজন গায়ক নন, তিনি তাঁদের আবেগ, স্বপ্ন এবং লড়াইয়ের প্রতীক। প্রশাসনিক স্তরে সৌন্দর্যায়নের কাজ চলতেই পারে, কিন্তু তা করতে গিয়ে শহরের ইতিহাস ও মানুষের আবেগকে গুরুত্ব না দেওয়ায় সরব হয়েছেন শিল্পীমহল থেকে সাধারণ মানুষ। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন, শিল্পকর্ম বা সাংস্কৃতিক প্রতীক সরিয়ে শহরকে কতটুকু সুন্দর করা সম্ভব? বরং এই ধরণের প্রতীকগুলোই তো শহরের ঐতিহ্য ও আবেগকে সমৃদ্ধ করে।
স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি:
এই বিতর্ক বুঝিয়ে দিল, জুবিন গর্গের প্রভাব কতটা গভীর। শুধু ছবি মুছে ফেলা নয়, প্রশ্ন উঠেছে— একজন কালজয়ী শিল্পীর স্মৃতি কীভাবে সংরক্ষণ করা উচিত? গরিমা গর্গের এই প্রশ্ন শুধুমাত্র একটি দেওয়ালচিত্রের অবলুপ্তি নিয়ে নয়, বরং একজন শিল্পীর অবদান ও মানুষের স্মৃতির মূল্যায়ণ নিয়ে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কি এই বিষয়ে কোনো সদুত্তর মিলবে? নাকি সৌন্দর্যায়নের আড়ালে এভাবে হারিয়ে যাবে অসমের সাংস্কৃতিক আইকনদের স্মৃতিচিহ্ন? সেই উত্তর খুঁজছে অসমের আপামর জনতা।